তালিকা কোথায়? কমিশনকে নিশানা করে বেলদা ও নারায়ণগড়ে মমতার আক্রমণ
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা ও নারায়ণগড়ে নির্বাচনী সভা থেকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির সবকিছুকেই একসঙ্গে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকেই কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, "চারটে তালিকা নাকি বেরিয়েছে একটাও তো চোখে পড়ল না! কোথায় সেই তালিকা?" এই প্রসঙ্গেই তিনি অভিযোগ করেন, গোটা প্রক্রিয়ায় চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন তিনি।

নারায়ণগড়ে প্রার্থী বদল নিয়েও স্থানীয় স্তরে ক্ষোভের কথা সামনে এসেছে। সেই প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতা বলেন, দল সবসময়ই নতুন মুখ ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সুযোগ দিতে চায়। তাঁর কথায়, "একজনকে সবসময় দেওয়া যায় না। সংখ্যালঘু, মহিলা সবাইকে সুযোগ দিতে হবে। দল সবার, তাই সবাইকে নিয়েই এগোতে হবে।" পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা দেন, কাজের মূল্যায়নেই টিকিট দেওয়া হয়, অসন্তোষ থাকলেও দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত নয়।
সরকারি প্রকল্প নিয়েও বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী বা লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পে কোনও ভেদাভেদ নেই। অথচ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই প্রকল্পের অনুকরণ হলেও নানা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাঁর আশ্বাস, যাঁরা এখনও লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাননি, তাঁদের জন্য কাজ চলছে।
আধার কার্ড প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মমতার অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে, আগে নোটবন্দি, এখন যেন "ভোটবন্দি"। তাঁর দাবি, এই সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে, অমিত শাহর প্রকাশিত 'চার্জশিট' এরও পাল্টা জবাব দেন তৃণমূল নেত্রী। কটাক্ষ করে বলেন, "প্রথম চার্জশিট তো মোদী শাহর বিরুদ্ধেই হওয়া উচিত। অশান্তি তৈরি করেই ওঁরা ক্ষমতায় এসেছেন।"
প্রশাসনে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ নিয়েও সরব হন তিনি। অভিযোগ করেন, দক্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দিয়ে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
মেদিনীপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে মমতা বলেন, এই অঞ্চল সংগ্রাম ও আন্দোলনের পীঠস্থান। সিপিএম আমলে বহু অত্যাচার ও খুনের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা টেনে বলেন, এখন রাজ্যে বিরোধীরা অবাধে মিছিল মিটিং করছে, কারণ তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এক টাকাও দেয়নি। রাজ্যই দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে।
ভোটের আগে জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচারে ঝড় তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারও পশ্চিম মেদিনীপুরে তাঁর একাধিক সভা থেকে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট, কমিশন থেকে বিরোধী, কাউকেই ছাড় দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।












Click it and Unblock the Notifications