দ্বিতীয় দফায় রত্না-কলতান থেকে মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ, নজরে একগুচ্ছ হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দফার নির্বাচনে মোট সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থী এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় যোগ করেছে।
দ্বিতীয় দফার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলির অন্যতম ভবানীপুর। এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন প্রদীপ প্রসাদ (জাতীয় কংগ্রেস) এবং শ্রীজীব বিশ্বাস (সিপিআইএম), যা এই আসনটিকে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে হাইলাইটেড লড়াইয়ে পরিণত করেছে।

কলকাতার চলচ্চিত্র শিল্পের কেন্দ্র টলিউগঞ্জ বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট অরূপ বিশ্বাসের 'নিরাপদ' আসন। এবার তিনি অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীর (বিজেপি) চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জাতীয় কংগ্রেস থেকে মানস সিনহা রায় এবং সিপিআইএম থেকে পার্থ প্রতিম বিশ্বাসও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উত্তরপাড়া আসনে তৃণমূলের প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র), বিজেপির দীপাঞ্জন চক্রবর্তী এবং বামেদের জনপ্রিয় মুখ মীনাক্ষী মুখার্জীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের দিকে নজর রয়েছে। জাতীয় কংগ্রেসের সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন।
দমদম উত্তর আসনে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁর আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন। তাঁর বিপরীতে লড়ছেন বামেদের উদীয়মান মুখ দীপ্সিতা ধর। এছাড়াও এখানে বিজেপির সৌরভ সিকদার এবং কংগ্রেসের ধনঞ্জয় মাইতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিধাননগরে তৃণমূল কংগ্রেসের সুজিত বসুকে বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামেদের প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জ করছেন। এখানে বিজেপির শারদ্বত মুখার্জি মাছ হাতে প্রচারে নেমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিলেন। এই আসনে কংগ্রেসের রণজিৎ মুখার্জি এবং সিপিআইএমের সৌম্যজিৎ রায়ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পানিহাটি কেন্দ্রে তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ, বিজেপির রত্না দেবনাথ এবং সিপিআইএমের কালতান দাশগুপ্তর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই দেখা যাবে। রত্না দেবনাথ আরজিকর কাণ্ডের শিকার মহিলা চিকিৎসকের মা। কালতান দাশগুপ্ত ওই প্রতিবাদ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ও কারাবরণ করেছিলেন। জাতীয় কংগ্রেস থেকে সুভাশিস ভট্টাচার্যও এই কেন্দ্রে প্রার্থী।
ভাঙড় কেন্দ্রে আইএসএফ (ISF) নেতা নওশাদ সিদ্দিকী মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সওকত মোল্লার। ২০২১ সালের নির্বাচনে নওশাদ ছিলেন বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের একমাত্র বিধায়ক। এই কেন্দ্রে বিজেপির জয়ন্ত গায়েন এবং কংগ্রেসের মাহবুবুল ইসলামও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
যাদবপুর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের দেবব্রত মজুমদার লড়ছেন সিপিআইএমের প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি এই আসনে বিজেপিও (প্রার্থী সর্বরী মুখার্জি) এখন উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। কংগ্রেসের শ্যামলী মণ্ডলও এই কেন্দ্রের প্রার্থী।
মানিকতলা আসনে তৃণমূলের প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়ছেন তাপস রায় (বিজেপি)। তিনি একসময় তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের সুগত রায় চৌধুরী এবং সিপিএমের মৌসুমী ঘোষও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
কালীগঞ্জ আসনে তৃণমূলের আলিফা আহমেদ, বিজেপির বাপন ঘোষ, এবং সিপিআইএমের সাবিনা ইয়াসমিন শেখের মধ্যে লড়াই দেখা যাবে। এছাড়াও জাতীয় কংগ্রেসের শেখ কাবিল উদ্দিন সহ অন্যান্য ছোট দলের প্রার্থীরাও এই কেন্দ্রে লড়ছেন, যা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
কলকাতা পোর্ট আসনে তৃণমূলের বরিষ্ঠ নেতা ফিরহাদ হাকিম মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপির রাকেশ সিং এবং সিপিআইএমের ফৈয়াজ আহমেদ খানের। এছাড়াও, এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের আকিউব গুলজার সহ অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন, ফলে এই কেন্দ্রে এক গুরুত্বপূর্ণ এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত।
নোয়াপাড়া কেন্দ্রে বিজেপির অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূলের তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং সিপিআইএমের গার্গী চট্টোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অশোক ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও লড়ছেন, যা এটিকে দ্বিতীয় দফার এক গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরিণত করেছে।
শিবপুর আসনে বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ এবং তৃণমূলের ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যাবে।
রাসবিহারীতে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার, বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত এবং কংগ্রেসের আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে।
রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে কণ্ঠশিল্পী অদিতি মুন্সিকে, যিনি বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির বিরুদ্ধে লড়ছেন।
কামারহাটি কেন্দ্রটি তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা মদন মিত্রকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তিনি বিজেপির অরূপ চৌধুরী এবং সিপিআইএমের মানস মুখার্জীর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কল্লোল মুখার্জীও এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বরানগর কেন্দ্রে তৃণমূলের অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ এবং সিপিআইএমের সায়নদীপ মিত্রের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে।
দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে তৃণমূলের রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপির ডাঃ ইন্দ্রনীল খানের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে।
ক্যানিং পূর্বে তৃণমূলের ডাঃ বাহারুল ইসলাম মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপির অসীম সাঁপুইয়ের। আইএসএফ-এর আরবুল ইসলাম, কংগ্রেসের সাবির আলি সর্দার সহ আরও অন্যান্য প্রার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছেন, যা এটিকে একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
সোনারপুর দক্ষিণ আসনে আরও একটি হাই-প্রোফাইল যুদ্ধ দেখা যাবে। এখানে বিজেপির রূপা গাঙ্গুলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূলের অরুন্ধতী মৈত্র (লাভলী) এর বিরুদ্ধে।












Click it and Unblock the Notifications