কল্যাণের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার ভাবনা রাজ্যপালের, কারাদণ্ড এড়ানোর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন টিএমসি সাংসদ?
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবন ও রাজ্যপালকে নিয়ে কল্যাণের বিতর্কিত মন্তব্য ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে।
কল্যাণের বক্তব্যকে খণ্ডন করতে রাজভবন চত্ত্বরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তল্লাশি চালান রাজ্যপাল। এরপরই মানহানির মামলা করার কথা তিনি ভাবছেন।

রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপাল এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করতে চলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ রাজভবনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত থাকার বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। আইনি পরামর্শের পরই মানহানির মামলার পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে রাজভবন সূত্রে খবর। এর জন্য সাংসদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
রাজভবনের এক আধিকারিক পিটিআইকে আরও বলেন, "ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী সাংসদের অপরাধ অজামিনযোগ্য।" উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যপাল বোস কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য, একটি বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং একটি স্নিফার ডগ নিয়ে রাজভবনে অস্ত্র ও গোলাবারুদের সন্ধানে তল্লাশি চালান।
সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে এই তল্লাশি চালানো হয় এবং সুশীল সমাজের সদস্যদেরও এতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার বোসের বিরুদ্ধে রাজভবনে "বিজেপি অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া" এবং "তাদের বোমা ও বন্দুক দিয়ে সজ্জিত করার" অভিযোগ তোলার পর এই পদক্ষেপ করা হয়।
পরে সেই দিনই রাজ্যপালের কার্যালয় এই বিতর্কের জেরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করার জন্যই তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
তৃণমূল সাংসদের জন্য রাজভবনের দরজা খোলা রাখা হয়েছিল যাতে তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ খুঁজে পান, কিন্তু তিনি আসেননি। আসলে, সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তাঁকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে করা যায় না। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের পর রাজভবনে পরিচালিত তল্লাশি অভিযান প্রসঙ্গে ওই আধিকারিক জানান যে, "রাজভবন চত্ত্বরে এমন কিছু পাওয়া যায়নি যা তৃণমূল সাংসদের অভিযোগকে সমর্থন করতে পারে।"












Click it and Unblock the Notifications