বাংলায় বিজেপি নাকি তৃণমূল, কারা গড়বে সরকার? কী বলছে সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায় বড়সড় ইঙ্গিত। সিএনএন (CNN) প্রকাশিত এবং ভোটভাইব (VoteVibe)-এর উদ্যোগে পরিচালিত এই সর্বশেষ সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) টানা চতুর্থবারের জন্য রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে। অন্যদিকে, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এই নির্বাচনে ১০০টির কাছাকাছি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বা 'অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি' তৈরি হওয়ার কথা। বিভিন্ন দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও সিএনএন এবং ভোটভাইব-এর এই সমীক্ষা বলছে, বাংলার সাধারণ মানুষের আস্থা এখনও তৃণমূলেরই ওপর রয়েছে। 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' বা 'স্বাস্থ্যসাথী'-র মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি তৃণমূলের গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ককে এখনও শক্তপোক্ত রেখেছে।

সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপির আসন সংখ্যা গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় বেশ কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির ১০০টি আসনের গণ্ডি ছুঁতে পারে বা তার আশেপাশে থাকতে পারে। এর অর্থ হল, ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন এখনই পূরণ না হলেও প্রধান ও শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করবে বিজেপি।
এই সমীক্ষা থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট যে, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের জন্য এই নির্বাচনেও বিশেষ কোনও আশার আলো নেই। মূল লড়াইটা মূলত তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চলেছে। বাম-কংগ্রেস জোটের ভোটব্যাঙ্ক খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এখনও বেশ কিছুটা সময় বাকি রয়েছে এবং ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর প্রচারে ঝাঁঝ বাড়লে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও বদলাতে পারে। তবে সিএনএন এবং ভোটভাইব-এর বর্তমান জনমতের চিত্র বিচার করলে বোঝা যাচ্ছে, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান এখনও যথেষ্ট জোরালো।












Click it and Unblock the Notifications