কেন হঠাৎ বাংলা ভাগের দাবি মাথাচারা দিয়ে উঠল? নেপথ্যে কি গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের উস্কানি
বঙ্গভঙ্গের দাবি ফের মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। আবারও উত্তরবঙ্গকে বাংলা থেকে আলাদা করার দাবি জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাই নিয়ে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। তাতে উত্তরপূর্ব ভারতের অংশ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি বাংলাকে।
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা বঙ্গভঙ্গের দাবিতে সরব হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তারপরে সেটা তেমন ভাবে আর সক্রিয় হয়ে উঠতে পারেননি। সেসয় বিজেপির সভাপতি ছিলেন দিলীপ ঘোষ। উত্তরবঙ্গের অনেক সাংসদই সেসময় বঙ্গভঙ্গের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন।

২০২৪-র লোকসভা ভোটে বিজেপি রাজ্যে ভাল ফল করতে না পারলেও উত্তরবঙ্গে কিন্তু ভাল ফল করেছে। উত্তরবঙ্গে কেন তৃণমূল কংগ্রেস ভাল ফল করতে পারল না তা নিয়ে প্রকাশ্যে সওয়ালও তুলেছিলেন তিনি। তারপরেই হঠাৎ করে অনন্ত মহারাজ বলেছেন উত্তরবঙ্গ কোনও দিনই বাংলার অংশ ছিল না। এই নিয়ে যথেষ্ট উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপির রাজ্যসভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি দিয়েছেন। বাজেটে উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলেছে মোদী সরকার। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা করে কিছু ঘোষণা করা হয়নি। এই নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
তারপরেই বিজেপির এই বঙ্গভঙ্গের দাবি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আগামী ২৭ জুলাই নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে তিনি এই নিয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। আট জেলা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তকর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পং। এর মধ্যে কালিম্পং জেলাটি নতুন করে তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গে বেশিরভাগই তপশিলি জাতি উপজাতির বাস।
উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় রয়েছে নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের সীমান্ত। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর থেকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির গেটওয়েতে পরিণত হয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। একাধিকবার একাধিক আন্দোলনে বারবার উত্তাল হয়েছে উত্তরবঙ্গ। বামেদেরপ আমলে্ উত্তাল হয়ে উঠেছিল পাহাড়। নেতৃত্বে ছিলেন সুবাস ঘিসিং। তারপরে আবার গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল পাহাড়। সেবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিমল গুরুং। দীর্ঘদিন পাহাড় থেকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল তাঁকে। ২০২১ সাল ফের পাহাড়ে ফেলের তিনি। সেটাও শাসক দলের সমর্থন নিয়ে। কিন্তু তারপরে আবার গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরব হয়েছেন তিনি।
এছাড়াও কামতাপুর আন্দোলনেও উত্তাল হয়েছে উত্তরবঙ্গ। গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। এর মাঝে আবার কেএলও জঙ্গিদের তৎপরতাও রয়েছে। বিমাল গুরুংয়ের সমর্থন নিয়ে বিজেপি পাহাড় পর পর ২ বার লোকসভা ভোটে জিতেছে। তারপরে আবার রাজবংশী সম্প্রদায়ের গুরু অনন্ত মহারাজকে সাংসদ পদ দিয়ে সেদিকেও জায়গা তৈরি করে রেখেছে। সব মিলিয়ে একাধিক নেতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কারণেই বিজেপি বঙ্গভঙ্গের জিগির জাগিয়ে তুলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications