রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের হানা, কী করবেন আর কী করবেন না, গাইডলাইন স্বাস্থ্য দফতরের
করোনার সংক্রমণের মধ্যে নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (blacj fungus) বা মিউকরমাইকোসিস (mucormycosis)। শুক্রবার ভোরে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে
করোনার সংক্রমণের মধ্যে নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (black fungus) বা মিউকরমাইকোসিস (mucormycosis)। শুক্রবার ভোরে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ জন এই ধরনের রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করতে গাইডলাইন দিয়েছে স্বাস্থ্য দফফত (health dept)।

রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে প্রথম মৃত্যু
রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে মৃত্যুর প্রথম ঘটনা। শুক্রবার ভোররাতে মারা যান হরিদেবপুরের বাসিন্দা শম্পা চক্রবর্তী (৩২)। শম্ভুনাথ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। শম্ভুনাথ হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছিল। করোনার মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হন তিনি। তাঁকে অ্যাম্ফোটিরিসিন-বি ওষুধও দেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের আগেই অবশ্য মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান থেকে এই রোগে আক্রান্তদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

প্রতিরোধ ক্ষমতা কমলেই হতে পারে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
সাধারণভাবে শরীরে ইমিউনিটি অর্থাৎ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমলে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকর মাইকোসিস হতে পারে। হাসপাতালে দীর্ঘদিন আইসিইউতে ভর্তি থাকলে কিংবা করোনা আক্রান্ত হয়ে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই রোগ হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীরাই আক্রমণের শিকার হন। এছাড়াও যাঁদের স্টেরয়েড নিয়ে হয়, তাঁরাও আক্রান্ত হতে পারেন। তবে করোনা আক্রান্ত হলে সবার যে এই রোগ হবে, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এইমধ্যেই এই রোগের জন্য কেন্দ্রের তরফে রাজ্যগুলিকে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

কোন কোন উপসর্গ
নাক বন্ধ থাকলে কিংবা নাক থেকে কালো, লাল কিংবা বাদামি রঙের দল জল/সর্দি বেরোলে, মুখের কোনও অংশে ব্যথা হলে কিংবা নাকের ওপরে কালো কোনও ছোপ পড়লে, দাঁতে কিংবা মাড়িতে ব্যথা হলে, সঙ্গে জ্বর, গায়ে ব্যথা, শ্বাস কষ্ট হলে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ফাঙ্গাস মাটিতে থাকে। কিন্তু শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে তা মানুষের শরীরকে আক্রমণ করে।

কী করবেন আর কী করবেন না
ডায়াবেটিক রোগী এবং করোনা আক্রন্ত হলে পরবর্তী সময়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখতে হবে। প্রতিদিনই নজর করতে হবে, দেহে কোনও সন্দেহজনক কোনও দাগ দেখা যাচ্ছে কিনা। স্টেরয়েড ব্যবহার করতে হবে খুব সাবধানে। এছাড়াও অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টি ফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করতে হবে খুব সাবধানে।
মাটি নিয়ে কাজ করলে পা ঢাকা জুতো, গ্লাভস পরা জরুরি।
তবে নাক বন্ধ হলেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হয়েছে, সেটা ধরে নেওয়াটা ভুল। তবে করোনা যাঁদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম আর যাঁরা করোনা আক্রান্ত, তাঁদের দিকে নজর করতে হবে। তবে সন্দেহ হলেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, এবং পরীক্ষা করাতে হবে।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে
ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতি নজর রাখতে হবে। স্টেরয়েডের ব্যবহার কমাতে হবে। রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল থেরাপি চালাতে হবে ৪-৬ সপ্তাহ ধরে।












Click it and Unblock the Notifications