ধীরে ধীরে বাংলাতেও থাবা বসাচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস! উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে মৃত্যু আরও দুই মহিলার
কার্যত লকডাউনে কিছুটা হলেও বাংলায় কমেছে করোনাতে সংক্রমণের হার। তবে করোনার সংক্রমণ কমলেও ক্রমশ চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। বেসরকারি মতে এখনও পর্যন্ত বাংলাতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০ থেকে ১২
কার্যত লকডাউনে কিছুটা হলেও বাংলায় কমেছে করোনাতে সংক্রমণের হার। তবে করোনার সংক্রমণ কমলেও ক্রমশ চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। বেসরকারি মতে এখনও পর্যন্ত বাংলাতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০ থেকে ১২ জনের।
যদিও সরকারি হিসাব বলছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে এখনও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বাংলাতে। ইতিমধ্যে মহামারী হিসাবে ঘোষণা কর হয়েছে মারণ এই রোগকে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বেশ কিছু গাইডলাইনও প্রকাশ করা হয়েছে।

চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধরা পড়ে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হল এক মহিলার। উত্তরবঙ্গেও আরও এক মহিলার একই কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একজন গাজজডোবার বাসিন্দা অন্যজন শিলিগুড়ির প্রধাননগরের বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁর চোখে সমস্যায় দেখা দেয়। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় জানা যায় তিনি মিউকোরমাইসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত। উত্তরবঙ্গে প্রথম ওই মহিলার শরীরেই ধরা পড়ে মারাত্মক এই ছত্রাক। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। ছত্রাক বাসা বাঁধায় ডান চোখ এবং মুখের বেশিরভাগ অংশ বাদ দেওয়া হয়েছিল তাঁর। তারপর থেকে লাগাতার ওই হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভরতি ছিলেন মহিলা। তবে চিকিৎসায় সেভাবে সাড়া দিচ্ছিলেন না তিনি। মঙ্গলবার রাতে শেষ হল তাঁর জীবনযুদ্ধ।

উত্তরবঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেণ আরও এক
উত্তরবঙ্গেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল আরও এক মহিলার। জানা গিয়েছে, তাঁরও চোখের সমস্যার জন্য অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এই রোগের কথা জানা যায়। অস্ত্রোপচার করা হয় ঠিকই। তবে শেষরক্ষা হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস এবার মহামারী
পশ্চিমবঙ্গেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে এবার থেকে রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিসকে নোটিফায়েবল ডিজিজ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানতে হবে নির্দিষ্ট গাইডলাইন। রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসককে এই গাইডলাইন মেনেইএই রোগের চিকিৎসা করতে হবে। যেখানে রোগ চিহ্নিত হয়েছে তা জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানাতে হবে। রোগীর পরিচয় এবং কী ধরনের চিকিৎসা করা হচ্ছে তাও জানাতে হবে।

স্বাস্থ্য দফতরের তরফে গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কি করা উচিৎ এবং কি নয় সেই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ এড়াতে মাস্কের সঠিক ব্যবহার জরুরি। বিশেষ করে ধুলোবালিময় এলাকা বা নির্মাণস্থলে গেলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। বাগানে বা মাটি নিয়ে কাজ করলে, জুতো, লম্বা ঝুলের ট্রাউজার, ফুল স্লিভ শার্ট এবং গ্লাভস পরা জরুরি। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্ক্রাবার দিয়ে গা ঘষে স্নান করা জরুরি। এমনই আরও বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications