বিহারের এসআইআরে চাঞ্চল্যকর তথ্য! একাধিক প্রশ্ন তুলল তৃণমূল
বিহারে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব সংকটের মুখে। এমনই দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ তৃণমূল ভবনে এসআইআর সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের নথিকেই হাতিয়ার করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সঙ্গে ছিলেন আরেক দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করা হয়েছে।

তৃণমূলের বক্তব্য, গত ৭ মার্চ এক প্রেস বিবৃতিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছিল-দশকের পর দশক ধরে চলা নকল এপিক নম্বরের সমস্যা তারা তিন মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জুনের মধ্যে সমাধান করবে। ২৭ জুলাই প্রকাশিত আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন নিজেই স্বীকার করেছে যে, বিহারের ভোটার তালিকার এসআইআর(SIR) চলাকালীন তারা ৭ লক্ষ ভোটারকে একাধিক জায়গায় নাম তোলা অবস্থায় পেয়েছে।
এখন সামনে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য- শুধুমাত্র বিহারের ৩৯টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ১,৮৭,৬৪৩ জন ভোটারের নাম রয়েছে দু'বার, যেখানে নাম আর আত্মীয়ের নাম পর্যন্ত হুবহু এক।
তৃণমূলের তরফে যে প্রশ্নগুলি রাখা হয়েছে তা হলো, এখনও যখন নকল ভোটার রয়ে গিয়েছে, তখন এসআইআরের আসল মানেটাই বা কী? বিহারে আরও কত নকল ভোটার আছে? সারা দেশে মোট কত নকল ভোটার আছে, আর কোন কোন রাজ্যে তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি? পূর্বের কতগুলো নির্বাচন এসব নকল ভোটারের কারণে কলুষিত হয়েছে? নকল ভোটার থাকার ফলে আসলে কার লাভ হচ্ছে? এই গুরুতর ব্যর্থতার জন্য প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়নি কেন?
তৃণমূলের বক্তব্য, ১৬,৩৭৫টি ঘটনায় যেখানে নকল ভোটারদের নাম, আত্মীয়ের নাম, বয়স, এমনকী ঠিকানা হুবহু মিলছে অথবা ঠিকানাগুলি একে অপরের থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সহজে চিহ্নিত করার কথা থাকলেও তা খসড়া তালিকায় থেকে গিয়েছে। এটা শুধু বিহারের বিষয় নয়। যদি একটি রাজ্যে এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে সারা দেশে নির্বাচনী কারচুপির মাত্রা কেমন হতে পারে, তা সহজেই কল্পনা করা যায় বলে দাবি করে তৃণমূলের তরফে বলা হচ্ছে, বিজেপি দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভ স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত। সন্দেহজনক কেসগুলির মোট ভোট সংখ্যা ৩.৭৬ লক্ষ যা ৩৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে ছড়িয়ে। এটি ছোটখাটো প্রশাসনিক ভুল নয়। এর ক্ষুদ্র অংশও ভুয়ো প্রমাণিত হলে তা নির্বাচনের ফলকে সরাসরি প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে, দাবি তৃণমূলের।
তাদের আরও বক্তব্য, গত বছর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই ভোটার তালিকার ভিত্তিতে লড়েছে। জিতেছেও। তখন রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশিদের নিয়ে কোনও উদ্বেগ ছিল না। এখন কেন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যু তোলা হচ্ছে? ভোটার তালিকা নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য বিশ্বাসযোগ্য হয়ে থাকলে এখন কেন প্রশ্ন উঠছে? এটা কি দ্বিচারিতা নয়? বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের স্ত্রী কোয়েল মজুমদার বালুরঘাট ও জলপাইগুড়িতে ভোটার তালিকায় তালিকাভুক্ত আছেন। তিনি নতুনভাবে নাম তুলতে ফর্ম ৬ ব্যবহার করলেও আগের সচিত্র পরিচয়পত্র ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে বাতিল করেননি কেন? সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications