শচীন্দ্রনাথ আর রবীন্দ্রনাথের নাম গোলালেন অমিত শাহ, খোঁচা তৃণমূলের, ভোটের ভবিষ্যদ্বাণীতেও শুভ লক্ষণ পেল টিএমসি
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাংবাদিক বৈঠকে বাংলার দুই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বর নাম নিয়ে বড়সড় ভুল করে বসলেন। যা নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস।
সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনাও করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে অমিত শাহ যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তাতে আগেকার ঘটনার মনে করিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে কটাক্ষও করেছে রাজ্যের শাসক দল।

অমিত শাহ এদিন শচীন্দ্রনাথ সান্যালের কথা বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ সান্যাল বলে বসেন। তৃণমূল তা নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, "না, মিস্টার অমিত শাহ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শচীন্দ্রনাথ স্যান্যাল- দুজনেই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। কিন্তু দুজন সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ। কিন্তু আপনি পার্থক্যটা বুঝবেন কী করে?
আসলে, আপনি একজন বহিরাগত যার ন্যূনতম সাংস্কৃতিক জ্ঞানটুকুও নেই। নিজের হোমওয়ার্ক ঠিকঠাক করুন। আমাদের আইকনদের বিকৃত করা বন্ধ করুন। আমাদের মণীষীদের অপমান করা বন্ধ করুন। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-নিজেও এভাবে অস্বস্তিতে পড়া বন্ধ করুন।"
শাহ এদিন বলেন, "কাশ্মীর সীমান্তে অনুপ্রবেশ কেন হয় না? শুধু বাংলাতেই কেন হয়?" এর জবাবে তৃণমূল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, "মিস্টার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনি যদি ভুলে গিয়ে থাকেন তবে মনে করিয়ে দিই: চলতি বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভারতের সীমান্ত লঙ্ঘন করে আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালিয়ে ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে হত্যা করেছিল। আপনার স্মৃতিশক্তি যদি আপনাকে এতোটাই কম সঙ্গ দেয়, তবে বোধ হয় এই দেশের সেবা করা আপনার আর উচিত নয়।"
তৃণমূল শাহকে বিঁধে আরও লিখেছে, "অমিত শাহ বাংলাকে গরিব রাজ্য বলে উপহাস করেছেন! বাংলা এবং বাঙালির প্রতি তাঁর গভীর অবজ্ঞা এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যাদের তিনি পিছিয়ে পড়া, নিম্নমানের এবং অযোগ্য মনে করেন।
কী অদ্ভুত পরিহাস! যে রাজ্যকে আপনি প্রকাশ্যে গরিব আর করুণার পাত্র বলে উপহাস করেন, সেই রাজ্যেই আবার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখছেন। আপনারা হলেন দিল্লির সেই অহঙ্কারী জমিদার, যাঁরা বাংলাকে বরাবর ঘৃণার চোখে দেখে এসেছেন। আপনারা আমাদের দয়ার পাত্র মনে করেন, আর বাংলাকে শুধুই করুণা আর লুণ্ঠনের জায়গা ভাবেন।
আপনি হয়তো ভুলে গেছেন, এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুলের ইসলামের মাটি। এটা সেই বিপ্লবীদের পুণ্যভূমি, যাঁরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, ঠিক যখন আপনাদের পূর্বসূরীরা ব্রিটিশদের কাছে মুচলেকা লিখতে ব্যস্ত ছিলেন। বাংলা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী, নবজাগরণ ও প্রতিরোধের আঁতুড়ঘর। আর সেই বাংলাকে আপনি গরিব রাজ্য বলে খাটো করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন?
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এই দু'টি শব্দ উচ্চারণ করে আপনি আসলে বাংলার মানুষকে প্রতিরোধের সেরা হাতিয়ারটি তুলে দিলেন। আপনি নিজের হাতেই বিজেপির পতন ডেকে আনলেন।"
তৃণমূল খোঁচা দিয়ে শাহকে ধন্যবাদ জানাতেও ভোলেনি। তৃণমূলের এক্স পোস্টে লেখা হয়েছে, "২০২১-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন পাক্কা ২০০ পার। বিজেপি আটকে গিয়েছিল ৭৭টি আসনে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ৩০টি আসনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। বিজেপি ধসে গিয়ে থামলো ১২টি আসনে। আর এখন, ২০২৬-এর জন্য তিনি বিজেপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জয়ের ঘোষণা করেছেন। ইতিহাস যদি কোনও ইঙ্গিত দেয়, তবে আমাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুখবর। তাই সত্যি বলছি, আপনাকে ধন্যবাদ। এর চেয়ে ভালো কোনো শুভলক্ষণ আমরা আশা করতে পারতাম না।"












Click it and Unblock the Notifications