মোদী বিজেপি-প্রচারক হিসেবে বাংলা নিয়ে মিথ্যা বয়ান সাজাচ্ছেন, দাবি তৃণমূলের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভা নিয়ে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী দেশের নন, বরং বিজেপির প্রচারকের ভূমিকায় নেমে কর্মসংস্থান ও পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি "মিথ্যা বয়ান" তৈরি করেছেন।
তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, রাজ্যের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা অনুমোদনের দাবি করলেও, কেন্দ্র আসলে রাজ্যের প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার বকেয়া আটকে রেখেছে।

সায়নী অভিযোগ করেন, "মোদী দাবি করেছেন তিনি বাংলার জন্য ১৮,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছেন। কিন্তু বাস্তবে, ১০০ দিনের কাজ, গরিবের আবাসন ও পানীয় জলের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য রাজ্যের ২ লাখ কোটি টাকা বকেয়া আটকে রেখেছেন। ফলে তাঁর ঘোষণা ললিপপ ছাড়া কিছু নয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, "মোদী যখন সংসদে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকেন ও সাংসদদের সম্বোধন করেন না, তখন নির্বাচনের আগে নিয়মিত রাজ্যে এসে বিজেপির সভাগুলিতে যোগ দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বিজেপির প্রচারক হিসেবে বেশি আচরণ করছেন।"
সায়নী ঘোষ রাজ্যের কর্মসংস্থান বিষয়ক মোদীর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন (৩.৭ শতাংশ)। তিনি বলেন, "বিজেপি-শাসিত উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলি বেকারত্বের শীর্ষে।
কৃষকদের উদ্বেগ উপেক্ষা করার অভিযোগও এনেছেন সায়নী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালে দিল্লির কৃষকদের প্রতিবাদ স্থলেও যাননি। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার আলু-সহ কৃষিপণ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) দিয়ে দুর্দশা মেটাচ্ছে। বাংলা সম্পর্কে তাঁর বয়ান ভিত্তিহীন।"
মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর অভিযোগ, মোদীর "অনুপ্রবেশকারী", "বাংলাদেশী" ও "রোহিঙ্গা" বিষয়ক বারবার উল্লেখ অপ্রমাণিত দাবি। তাঁর প্রশ্ন, "ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৫৮ লাখ নামের কতজন রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি, তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।" বিজেপি ভোটারদের মেরুকরণের চেষ্টা করছে বলেও ব্রাত্য বসু অভিযোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিজেপির "বিভাজনমূলক অ্যাজেন্ডা" প্রতিফলিত, যা নির্বাচনী লাভের জন্য বিভিন্ন সম্প্রদায়কে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা বলে মন্তব্য ব্রাত্যর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "রাজ্যের উদার ও প্রগতিশীল মানুষেরা এমন বাগাড়ম্বরে প্রভাবিত হবেন না।" তাঁর মতে, "প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি যেন মিথ্যা প্রচারকারী বিজেপি নেতা।"
মন্ত্রী শশী পাঁজা বিজেপির "পরিবর্তন" স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, "বিজেপির আশ্রয়প্রাপ্ত দুষ্কৃতীরা" তাঁর বাসভবনে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications