বৃদ্ধের ঘাড় কামড়ে ধরে চোখের নিমেষে নৌকো থেকে জঙ্গলে বাঘ!

ঘটনাস্থল সুন্দরবনের গোসাবার অন্তর্গত লাহিড়ীপুর। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা ছেলে যতীশ আর মেয়ে মলিনাকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন কাঁকড়া ধরতে। নদীর পাড় থেকে ডিঙি নৌকোয় ভেসে পড়েন। ডিঙির সামনে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী যতীশ, মাঝখানে ষাটোর্ধ্ব সুশীলবাবু আর শেষে মলিনা। দীর্ঘদিন অভিজ্ঞতার সুবাদে জানতেন, খাঁড়িতে ভালো কাঁকড়া পাওয়া যায়। এটাও জানতেন, ভোরে জঙ্গলাকীর্ণ খাঁড়িতে ঢোকা ঠিক নয়। তবুও ঢোকেন।
সুন্দরবনে জঙ্গলঢাকা খাঁড়িতে ছেলে-মেয়ের চোখের সামনেই ভয়াবহ আক্রমণ
বাকিটা শোনা যাক যতীশের মুখে। তিনি বলেন, "যতই খাঁড়ির ভিতর ঢুকছিলাম, হেঁতাল গাছের জঙ্গল যেন দু'পাশ থেকে চেপে ধরছিল। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর বাবা একটা জায়গায় নৌকোটা থামাতে বলল। আমরা কাঁকড়া ধরার তোড়জোড় করছি, নাকে এল একটা বোঁটকা গন্ধ। আমি ইতিউতি চাইছিলাম। হঠাৎ নৌকোর পিছন দিক থেকে বোনের চিৎকার, দাদা রে বাঘ! ঘুরে তাকাতেই একটা হলুদ রঙের কিছু নৌকোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, ঠিক বাবার ওপরে। হাতের লাঠিটাও বাগানোর সময় পাইনি। ততক্ষণে বাবার ঘাড় কামড়ে ধরে বাঘটা ঝাঁপ দিয়েছে ডাঙায়। ওর বিশাল চেহারার আড়াল থেকে শুধু বাবার দু'টো পা দেখতে পেলাম। দৌড়ে চলে গেল গভীর জঙ্গলে। বোন সেই অবস্থা দেখেই অজ্ঞান। আমার অবস্থাটা বুঝুন! আমি হাউহাউ করে কাঁদছি। ভাগ্যক্রমে আরও একটা নৌকো তখন কাঁকড়া ধরতে বেরিয়েছিল। আমার কান্না শুনে ছুটে আসে। আমি ওদের বলি, কুড়ুল-কাটারি নিয়ে জঙ্গলে যাই চলুন। কিন্তু কেউ জঙ্গলে ঢুকতে রাজি হয়নি। বোনকে নিয়ে তাই বাড়ি চলে আসি। চোখের সামনে বাবাকে বাঘ নিয়ে গেল, কিছু করতে পারলাম না।"
সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর সৌমিত্র দাশগুপ্ত বলেন, "ঘটনাটা দুঃখজনক। কিন্তু যেখানে এটা হয়েছে, সেখানে মাছ, কাঁকড়া ধরতে যাওয়া নিষেধ। বন দফতরের বারণ আছে। সেটা এখানকার সব মৎস্যজীবী জানেন। তবুও ওঁরা গিয়েছিলেন। বাঘের উপদ্রবের কারণেই আমাদের বারণ আছে। কেউ না শুনলে আমাদের কিছু করার নেই।"












Click it and Unblock the Notifications