'নিপা' নিয়ে ভয়ংকর তথ্য! আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন ৮২ জন, কী হবে বাংলার হাল? জারি হেল্পলাইন নাম্বারও
ধীরে ধীরে বাড়ছে নিপা ভাইরাসের উদ্বেগ। ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দু'জন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানা গিয়েছে। দু'জন স্বাস্থ্যকর্মীকেও ভর্তি করা হয়েছে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে একজন নার্স এবং অন্যজন হলেন চিকিৎসক। এর মধ্যেই আবার পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের মন্তব্য নতুন করে চিন্তা বাড়াল।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর যে, নিপা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা খুব তাড়াতাড়ি বাড়ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত যেখানে ৪৮ জনের কন্টাক্ট ট্রেসিং করা হয়েছিল, বুধবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জনে। স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছে যে, এই তালিকা এখনও চূড়ান্ত নয়।
এই ৮২ জনের মধ্যে দু'জনের হালকা ভাবে উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন হাউস স্টাফ। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। বর্তমানে তিনি বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল। আর এক জন নার্সিং স্টাফের কিছু লক্ষণ দেখা দিলেও, এখন তিনি ভালো আছেন। স্বাস্থ্য দফতরের মতে, আক্রান্ত রোগীদের খুব কাছ থেকে পরিষেবা দেওয়ার কারণেই তাঁরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েছেন।
গত সোমবার থেকেই রাজ্যে নিপা সংক্রমণের খবর সামনে আসতে শুরু করে। আর তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত দু'জনের শরীরে নিপা ভাইরাস ধরা পড়েছে। আরও দু'জনকেই গতকাল সন্দেহভাজন হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রথম সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তিনি জানিয়েছেন যে, সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য খুব শিগগিরই বাংলায় কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ দল 'ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক টিম' আসছে। আরও জানানো হয়েছে যে, এই দল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে মিলেই পরিস্থিতি সামলাবে।
সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একাধিক হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। প্রয়োজন পড়লে ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮, ৯৮৩৬০৪৬২১২, ০৩৩-২৩৩৩০১৮০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
এই আবহে নিপা নিয়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তরজা। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন যে, এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের উচিত কেন্দ্রের কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়া। তার আবার পাল্টা কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকেও বলেন যে, রাজ্য সরকারকে শেখানোর দরকার নেই। তারপর করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে নিপা পরিস্থিতি এখন নজরদারির মধ্যেই রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরও সতর্ক রয়েছে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলেই জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications