Murshidabad: ১০ হাজারের জমায়েত, পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে খুনের ছক! মুর্শিদাবাদ হিংসায় মারাত্মক রিপোর্ট দিল রাজ্য
Murshidabad: ঠিক এক সপ্তাহ আগে ওয়াকফ ইস্যুতে প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব, অশান্তির সূত্রপাত মুর্শিদাবাদে। এক সপ্তাহ হতে চললেও এখনও ভয় তাড়া করছে সুতি, সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান ও জঙ্গিপুরের বাসিন্দাদের মনে। হিংসায় ঘরছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ। ঠিক কীভাবে ছড়িয়েছিল অশান্তি? সূত্রের খবর, ৮ এপ্রিল জঙ্গিপুরে পুলিশের উপর হামলা নিয়ে হাইকোর্টে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জমা দিয়েছে রাজ্য সরকার।
এনডিটিভির হাতে যে রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে, তাতে দাবি করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার লোকের জমায়েতের মাঝে পুলিশ আধিকারিকদের কোনওক্রমে উদ্ধার করা হয়। ১০ হাজার মানুষের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ছিল বলেও দাবি। গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থেকে যেভাবে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল, সে নিয়ে হাইকোর্টে ৩৪ পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সংঘর্ষ এমনই মাত্রাছাড়া হয় যে প্রাণ হারাতে হয় ৩ জনকে।

প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার ক্ষিপ্ত মানুষ পুলিশের উপর আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পুলিশ কর্তাদের হাত থেকে সার্ভিস রিভলবারও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, কাতারে কাতারে ক্ষিপ্ত জনতা মুর্শিদাবাদের পিডব্লিউডি মাঠে জড়ো হয়েছিলেন। প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ ছিলেন সেখানে। দু ভাগে ভাগ হয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ গিয়েছিলেন উমরপুরের দিকে। সেখানে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন তারা।
স্রেফ তাই নয়, পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ক্ষুব্ধ মানুষজন কোনও কথাই শোনেননি বলে অভিযোগ। উল্টে পুলিশকেই নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এমনকী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও আস্ত ইট ছুড়তে শুরু করে তারা। বিকেল ৪টে নাগাদ রঘুনাথগঞ্জের উমরপুরে পুলিশের উপর হামলা। এমনকী মুর্শিদাবাদের এসডিপিও-র হাত থেকে পিস্তলও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি রিপোর্টে। তাতে ১০ রাউন্ড গুলিও ছিল বলে দাবি। পুলিশকে খুন করার উদ্দেশ্যেই লাঠি- রড, হাঁসুয়া ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে আসে দুষ্কৃতীরা। কোনওক্রমে পুলিশকে সেখান থেকে সরানো হয়।
এরপর টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটিয়ে উন্মত্ত বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে পুলিশ। এরপর পুলিশ ১৪২ রাউন্ড রাবার বুলেট, ১০ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস, ৪০ রাউন্ড স্টান শেল ও ৯ রাউন্ড স্মোক বোমা ছোড়া হয়। ১২ এপ্রিল কাঞ্চনতলা মসজিদে ফের জড়ো হয় দুষ্কৃতীরা। ঘোষপাড়ায় হিন্দুদের একের পর এক ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। জাফরাবাদে ঘুরে ঢুকে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৬০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications