বিপর্যয়ের সুযোগে দুঃসহ যাত্রা! দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি ৬৩ কিমিতে ভাড়া ১৫ হাজার, বিপাকে পর্যটকরা
একদিকে পাহাড়ে ধস ও মৃত্যুমিছিল আর নিখোঁজের আতঙ্ক,অন্যদিকে কিছু মানুষের কাছে এই দুর্যোগ যেন হয়ে উঠেছে "পৌষমাস"। পাহাড়ে আটকে পড়া পর্যটকদের দুরবস্থাকে হাতিয়ার করে একাংশ গাড়িচালক লুফিয়ে নিচ্ছেন অস্বাভাবিক ভাড়া। দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬৩ কিলোমিটার রাস্তার জন্য কেউ চাইছেন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া!

দমদমের এক পর্যটক পরিবার এই চরম অভিজ্ঞতার সাক্ষী। মেয়ে-জামাই, আত্মীয়স্বজন মিলে মোট ১৭ জন মিলে এসেছিলেন দার্জিলিং ঘুরতে। দুর্গাপুজোর সময়ের পরিকল্পনায় পাহাড়ে পৌঁছে ছিলেন দশমীর দিন। কিন্তু শনিবার রাতের ভয়াবহ বৃষ্টি ও ধসে সব পরিকল্পনা ওলটপালট হয়ে যায়। হোটেলে বিদ্যুতের ঝলকানি ও বজ্রগর্জনের মধ্যে আতঙ্কে রাত কাটানোর পর, পরদিন সকালে ফেরার উদ্দেশ্যে গাড়ি ধরতে গিয়ে সামনে আসে ভয়াবহ বাস্তবতা।
চকবাজার স্ট্যান্ডে গাড়ি থাকলেও কেউ শিলিগুড়ির দিকে যেতে রাজি নন। চালকদের দাবি, পথে ধস নেমেছে, ঘুরপথে যেতে হবে, ঝুঁকি অনেক তাই ভাড়া দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা। বারবার অনুরোধ করেও কোনো সাড়া মেলেনি। এক চালক সরাসরি বলেন, "১২ হাজার টাকার কমে অসম্ভব।"
পর্যটক পরিবারটির কথায়, "আমরা ভাবতেই পারিনি, এমন দুর্যোগের সময় কেউ মানুষের অসহায় অবস্থাকে অসৎ কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করবে। পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে এসে এখন শুধু আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা।"
তাই অগত্যা ট্রেনের টিকিট বাতিল করে আপাতত হোটেলেই আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কবে কীভাবে কলকাতায় ফিরতে পারবেন, সেই উত্তর এখনও অজানা।
দার্জিলিংয়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পাহাড়ে ধসের কারণে একাধিক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও, অনেক চালক সুযোগ নিচ্ছেন পর্যটকদের অসহায় অবস্থার। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা চলছে।
পাহাড়ে এখন এক অদ্ভুত দৃশ্য একদিকে যেমন প্রকৃতির তাণ্ডব, অন্যদিকে মানুষের বিবেকের পরীক্ষা। দুর্যোগের সময়েও কেউ লড়ছে বাঁচার লড়াই, কেউ আবার লড়ছে মুনাফার লোভে।












Click it and Unblock the Notifications