বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন, উপলব্ধি শুভেন্দুর
বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিরতা ও সংখ্যালঘু সুরক্ষায় ১৯৭১ সালের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন। এটাই তাঁর ব্যক্তিগত মত বলে উল্লেখ করে এই মন্তব্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁদের সর্বতোভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন শুভেন্দু। বাংলাদেশ সরকারকেও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।

শুভেন্দুর মতে, বাংলাদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকরা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এই পথই বেছে নেবেন। তিনি স্পষ্ট করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তি সংগ্রামীরা পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিলেন। এই মন্তব্য তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে করছেন, বিজেপি নেতা হিসেবে নয়।
সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন: "সেখানকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ, যারা জামাত-পন্থীদের পরাজিত করে বাঙালির সংস্কৃতি ও সাহিত্যের গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চান এবং হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চান, তাঁদের হয়তো ১৯৭১ সালের মতো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করতে হবে।"
শুভেন্দু অধিকারী আরও যোগ করেন, "মুক্তি সংগ্রামীরা বাংলাদেশের মাটি থেকে পাকিস্তানি হানাদারদের বিতাড়িত করেছিলেন। একই ধরনের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হয়তো বর্তমানের জিহাদ-বিরোধী মুক্তি সংগ্রামীদের কাছে সময়ের দাবি। দেখা যাক।"
শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ড. মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বা অন্য সক্রিয় শক্তিগুলো সংখ্যালঘু হিন্দুদের মনে আস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ। তিনি বিশ্বাস করেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
গত বছর আগস্টে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘু, বিশেষত হিন্দুরা, ধারাবাহিক হামলার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহে ২৫ বছর বয়সী হিন্দু শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস গণপিটুনির শিকার হন। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, "আমি বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে কম, বরং ভারতের একজন নাগরিক হিসেবেই বেশি কথা বলছি। বাংলাদেশে অপারেশন সিঁদুরের মতো কয়েকটা ড্রোন পাঠানোর দরকার আছে।"
শুভেন্দু এদিন জানান, বাংলাদেশের উপ-হাই কমিশন থেকে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি উচ্চ-স্তরের প্রতিনিধি দলকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, "আমরা পরবর্তীতে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঘোষণা করব।"
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার শহরের এসপ্ল্যানেড এলাকায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তাঁরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানান। শতাধিক গৈরিক পতাকা হাতে সন্ন্যাসীসহ বহু মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications