আরজি কর লিফ্টকাণ্ডে রাজনৈতিক ঝড়! 'এটা দুর্ঘটনা নয়, খুন', মমতাকে সরাসরি নিশানা শুভেন্দুর
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে ৪০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির লিফ্টে আটকে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মানতে একদমই নারাজ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ যে, এই একটি পরিকল্পিত ঘটনা এবং এর দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

মৃত ওই ব্যক্তির নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বয়স ৪০, বাড়ি দমদমে। জানা গিয়েছে যে, ছেলের হাত ভেঙে যাওয়ার কারণে ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফ্টে ওঠার পর স্ত্রী এবং ছেলেকে নিয়ে তিনি কিছু সময় সেখানে আটকে পড়েন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে যে, অনেক্ষন আটকে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
আজ পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, যে লিফ্টটিতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেটির মেরামতির কাজ চলমান ছিল। তা সত্ত্বেও রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সেই লিফ্টে ওঠানো হয়। তাঁর মতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি এই ঘটনাটির জন্য স্বাস্থ্য দফতর এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও সমান ভাবে দায় নিতে হবে।
অন্যদিকে আবার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যে, ভোরের দিকে হাসপাতালে ভিড় কম থাকার কারণে অনেকক্ষণ ধরে সাহায্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লিফ্টে আটকে থাকার পর ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয় কিন্তু তখন আর তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
ঘটনাটির পর হাসপাতাল চত্বরে রোগীদের পরিজনেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ যে, বেশিরভাগ সময় ট্রমা কেয়ার বিভাগের লিফ্টে কোনও লিফ্ট অপারেটর থাকেন না, যা বড়সড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাই রুজু করা হয়েছে। তদন্তের করার স্বার্থে লিফ্ট অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও চলছে। জানা গিয়েছে যে, এই ঘটনায় যদি কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে, হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications