মমতা আইনের ঊর্ধ্বে নন, কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে মন্তব্য শুভেন্দুর, তুললেন গুরুতর অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই প্রসঙ্গে দুটি ভিডিও প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ এ কথা জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি মা-বোনেদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানি দিচ্ছেন-যাতে তারা হাতা-খুন্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আক্রমণ করে। এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় না, বরং সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকেই আক্রমণ করে। শ্রী অধিকারীর অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আক্রমণের প্ররোচনা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপন্ন করছেন।

শুভেন্দু আরও বলেন, একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে, যাঁর অধীনে পুলিশ প্রশাসন কাজ করে, এই ধরনের প্ররোচনামূলক বক্তব্য অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্যের জন্য নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে-তাহলে একই মানদণ্ড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না কেন? তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনের ঊর্ধ্বে নন।"
এ ছাড়াও, শুভেন্দু অভিযোগ করেন যে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশ জারি করা হলেও সেগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। তিনি জানান, ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি মনোজ ভার্মা মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের কর্মীদের সুবিধার্থে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে ফেলছেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী।
শুভেন্দু আরও প্রশ্ন তোলেন যে, বদলি হওয়ার পরেও জঙ্গিপুরের এসপি মেহেদি হাসান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি পলাশ ঢালি কীভাবে এখনও প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
এ ছাড়াও, তিনি অভিযোগ করেন যে, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (IB)-এর মাধ্যমে এখনও বিজেপি কার্যকর্তাদের ফোন ও লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারের সময় সিআইডি দ্বারা বারবার ডেকে পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। শুভেন্দু জানান, বহু ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের নাম ভোটার তালিকায় থেকে যাচ্ছে। বিজেপি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জমা দিয়েছে এবং অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
-
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ভবানীপুরে অশান্তির জেরে চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড নির্বাচন কমিশনের -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
মালদহের ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত, কালীঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে দাবি শুভেন্দুর -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
ভোটের আগে তালিকা সংশোধনে তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ -
যান্ত্রিক গোলযোগে নামতেই পারল না কপ্টার, অসমে বাতিল হল অমিত শাহের জনসভা -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে মালদহে বিচারক ঘেরাও এর ঘটনায় রিপোর্ট তলব কমিশনের











Click it and Unblock the Notifications