এসআইআরের কারণেই মৃত্যুমিছিল! তৃণমূলের দাবি সপাটে ওড়ালেন শুভেন্দু, ঠিকাদারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা
এসআইআরের আতঙ্কের জেরে রাজ্যে আত্মহত্যা-সহ নানা কারণে মৃত্যুর ঘটনা সামনে এনে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, "অন্য ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-সম্পর্কিত মৃত্যুর একটিও ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু শুধুমাত্র তৃণমূল চেয়ারপার্সন এবং তাঁর দলের নেতারা দাবি করছেন এসআইআরের আতঙ্ক বা কাজের চাপে সাধারণ মানুষ বা বিএলও-দের মৃত্যু হয়েছে। এই সব বিবরণ সম্পূর্ণ মিথ্যা।"

শুভেন্দুর কথায়, তৃণমূল নেতাদের নিজেদের বড় ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়া উচিত এই আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে, যা তাঁদের প্রতিটি মৃত্যুতে এসআইআর-এর ভূত খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করছে। তিনি জানান যে নির্বাচন কমিশন "বুঝতে পেরেছে যে বিডিও এবং ডিএমদের একটি অংশ তৃণমূলের সরাসরি প্রভাবে ছিল এবং কমিশন সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে। তৃণমূলের নেতাদের ছাড়া প্রতিটি নাগরিকের সন্তুষ্টি নিয়ে পুরো এসআইআর প্রক্রিয়া সুচারুভাবে চলছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশত্যাগের খবর নিয়ে শুভেন্দু বলেন, "আমি বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চলে যেতে বলছি। আমরা তাদের বলছি নৌকা বা যে কোনও পরিবহনে দ্রুত চলে যেতে। প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্তকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নির্বাসনের পদক্ষেপে কোনও শিথিলতা হবে না। তবে, আমরা হিন্দু উদ্বাস্তুদের সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব দেব।"
তৃণমূল সরকার গ্রামীণ এলাকায় ১০০ দিনের কাজের কর্মসূচির অধীনে ঠিকাদারদের অর্থ পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করে শুভেন্দু বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই পানীয় জল সরবরাহ, গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ এবং আবাসন-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ প্রকল্পের জন্য কাজের আদেশ জারি করা হয়েছে।
শুভেন্দু অভিযোগ করেন, এই পদ্ধতিতে গ্রামীণ এলাকায় হাজার হাজার কোটি টাকার ৯,১১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং সড়ক নির্মাণ প্রকল্প 'পথশ্রী'কে তিনি 'লুঠশ্রী' (লুণ্ঠন) বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "আমি উন্নয়নের কাজ বন্ধ করতে বলছি না। কিন্তু এত বছর ধরে কাজ না করার পর, বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য হঠাৎ টেন্ডার জারির এই তাড়াহুড়ো সন্দেহ জাগায়। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে যে অর্থ পাচার না হয় এবং অবকাঠামোর কোনো অবনতি না ঘটে।"
একশো দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্পে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের আমলে ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে কাজ দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, যে সমস্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে সেই সমস্ত ঠিকাদারদের পেমেন্ট অনিশ্চিত।
তিনি বলেন, আমি এই রাজ্যের ঠিকাদারদের উদ্দেশে বলছি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই কাজের জন্য কোনো বাজেটারি অ্যালোকেশন করেনি। ফলে আপনারা এই ধরনের কাজ নেবেন না, কারণ পরবর্তীতে আপনারা সেই টাকা পাবেন না। তিনি আরও বলেন, এই ভুয়ো কাজের জন্য ৭ থেকে ৮ শতাংশ কমিশন দিয়ে যে কাজগুলো আপনারা নিচ্ছেন এর পেমেন্ট কিন্তু আপনাকে করা হবে না। এই রাজ্যকে বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব আমাদের। বিজেপি ২০২৬ এর ক্ষমতায় আসবে তাই আপনারা ভোটের আগে এই ধরনের ভুয়ো কাজে যোগ দেবেন না।
বেশ কিছু তথ্য এবং ছবি দেখিয়ে শুভেন্দু বলেন, ম্যাকিন্টোস বার্নের হয়ে এবং অ্যাগ্রোর হয়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশ টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে, এই টাকার চার শতাংশ যাচ্ছে তৃণমূলের নির্বাচনী তহবিলে। যা পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করছে ক্যামাক স্ট্রিট। ব্রোকার সৌভিক সরকারের নাম তুলে ধরা হয়। যিনি এই সমস্ত টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন। শুভেন্দু তাঁর বক্তব্য শেষে বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য এই রাজ্যের ঠিকাদার বন্ধুদের রক্ষা করা। কারণ তৃণমূল সরকারের কাছে এখন কোনও ফান্ড নেই, বাজেট অ্যালোকেশন নেই, অথচ পঞ্চায়েত দফতর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জালিয়াতি করছে।












Click it and Unblock the Notifications