বিডিও-বিএলও আঁতাত নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু, তৃণমূলের এসআইআরের ভয় পাওয়ার কারণ নিয়েও সরব
রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, বুথ লেভেল অফিসার (BLOs) এবং ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের (BDOs) একটি অংশের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের "গভীর আঁতাত" রয়েছে।
এর উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন কমিশনের "ভুয়ো ভোটার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের" তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টাকে রুখে দেওয়া।

রাজ্য বিজেপি সদর দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ "আপত্তিকর মন্তব্য এবং প্রকাশ্য হুমকি" দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া "বিরোধিতার" সম্মুখীন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের কর্মীরা "গাছে বেঁধে রাখব"-র মতো মন্তব্যসহ "গালমন্দ" করতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০০ বুথ লেভেল অফিসারকে তাঁর "সম্মতি ছাড়াই" নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রশিক্ষিত করার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
শুভেন্দু অভিযোগ করেন যে, আই-প্যাক (I-PAC), কিছু বিএলও এবং কিছু বিডিও-র মধ্যে "ঘনিষ্ঠ আঁতাত" রয়েছে, যা তৃণমূলস্তরে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার একটি পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা। তাঁর দাবি, তমলুকের বিডিও "মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের বিষয়ে বিএলওদের ভুল তথ্য দিচ্ছেন"। এ ছাড়া, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় SIR ইন-চার্জ "বিএলওদের খালি ঠিকানাতেও ফর্ম বিতরণে বাধ্য করছেন"।
তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে একটি হেল্পলাইন খোলার অনুরোধ জানান, কারণ "অনেক বিএলও রাজনৈতিক কারণে ভোটার গণনা ফর্ম সরবরাহ করছেন না"। শুভেন্দু জোর দিয়ে বলেন, বিএলওদের অবশ্যই মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের তাঁদের অ্যাপে যথোপযুক্ত রিপোর্ট করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন যে, সব আটকে রাখা ফর্ম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিতরণ করা হোক "যাতে একজনও বৈধ ভোটার বাদ না পড়েন"।
বিজেপি ১৩.২৫ লক্ষ "ভুয়ো ভোটারের" তালিকা জমা দিয়েছে বলেও তিনি জানান। তাঁর অভিযোগ, ২২৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে ৫০ থেকে ১৫০ জন "মৃত ভোটার" পাওয়া গেছে। নাগরিকত্ব বিষয়ে দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন: "বৈধ শরণার্থীরা সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব পাবেন। অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে"।
তিনি দাবি করেন, "কিছু বিএমওএইচ (BMOH) এবং প্রধান" দ্বারা জাল জন্ম শংসাপত্র তৈরি সহজ করা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে নির্বাচন প্যানেলকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। তার মতে, নির্বাচন কমিশনের উচিত "মৃত ভোটারের প্রকৃত সংখ্যা" নির্ধারণের জন্য কবরস্থানের রেকর্ড, 'সমব্যথী' অ্যাপের ডেটা এবং পেনশন তালিকাগুলি যাচাই করা। তিনি আরও যোগ করেন, "একটি সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়া উচিত। বাংলার মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান।"
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সম্পর্কিত একটি প্রেজেন্টেশন সকলের সামনে তুলে ধরেন শুভেন্দু, যেখানে মূলত ৪টি বিষয় দেখানো হয়। সেগুলি হলো, ১. মাল্টিপল ডুপ্লিকেট ভোটার, ২. মৃত ভোটার, ৩. ডবল ভোটার অর্থাৎ একই বুথে দুটো ভোট, ৪. বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের পলায়ন। শুভেন্দুর কথায়, এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভয় পাওয়ার কারণগুলি। কারণ এই মৃত ভোটার, ভুয়ো ভোটের মাধ্যমে যে আসনগুলি তারা পেত সেইগুলো হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে এপ্রিল মাস থেকে প্ল্যান বি, প্ল্যান সি করতে হচ্ছে তাদের। ইলেকশন কমিশন যেমন সজাগ আছে তেমনি ভারতীয় জনতা পার্টিও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ব্লক, বুথে সক্রিয় রয়েছে।
পাশাপাশি তিনি জানান, আধার কমিটির সঙ্গে ইলেকশন কমিশনের মিটিং এর মাধ্যমে ৩৪ লক্ষ মৃতদের নাম বের করা হয়েছে। এছাড়াও ইলেকশন কমিশন সামাজিক প্রকল্পে ভাতা পাওয়া মানুষদের মৃতর তালিকা সরকারি ভাবে সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, ত্রুটিমুক্ত ভোটার লিস্ট ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। বিহার পথ দেখিয়েছে সেই পথেই বাংলা হাঁটবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
এদিকে, আজ কলকাতায় রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎ করেন শুভেন্দু অধিকারী।












Click it and Unblock the Notifications