আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা শুভেন্দুর, সুজিতের পদত্যাগ দাবি
আনন্দপুরে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে না যাওয়ার তীব্র সমালোচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, এত বড় মর্মান্তিক ঘটনার পরও মুখ্যমন্ত্রী না ঘটনাস্থলে গিয়েছেন, না ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেছেন; অথচ তিনি লাগাতার নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই অঞ্চলটি কি কোনও "বিশেষ সম্প্রদায়ের" নয় বলেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাননি? বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শুভেন্দু বলেন, বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাকে ঘটনাস্থলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং দলের নেতা-কর্মী ও আধিকারিকরা মাঠে নেমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গভীর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার চিত্র উঠে এসেছে। অবৈধভাবে জলাভূমি ভরাট করে নির্মাণ কাজ চলছিল, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনও ফায়ার লাইসেন্স ছিল না এবং নিরাপত্তা বিধির চরম লঙ্ঘন করা হয়েছে।
এই ঘটনার নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করে রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বোসের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান শুভেন্দু। তিনি ঘোষণা করেন, বৃহস্পতিবার বিজেপির ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবে, যাতে নিখোঁজদের সন্ধান এবং একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। প্রতিনিধি দল নরেন্দ্রপুর থানায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ করবে। এরপরও যদি প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে বিজেপি শোকাহত পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্য সচিবালয়ে গিয়ে আন্দোলনে নামবে।
সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া আবাসন প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, আবাসন প্রকল্পগুলিতেও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখনও পর্যন্ত একটু জমিও অধিগ্রহণ করা হয়নি, একটি টেন্ডারও জারি হয়নি এবং কোনও কাজই শুরু হয়নি। তিনি স্থানীয় সাংসদের বিরুদ্ধে শুধু ছবি তুলে প্রচার করার অভিযোগ তোলেন। শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করে দেখানো হবে।
তিনি যুব সমাজ ও সাধারণ মানুষকে "ডিজিটাল ওয়ারিয়র্স" অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে মুখ্যমন্ত্রী ও তার ভাইপোর IPAC-নিয়ন্ত্রিত সরকারের মুখোশ খুলে দেওয়া যায়। তিনি বিশেষ করে তাঁদের আহ্বান জানান, যাঁরা কাজ চান, পেট ভরে ভাত চান, মাথার উপর ছাদ চান; যাঁরা চান বাংলা বাংলাদেশে পরিণত না হোক এবং বাংলার যুবক-যুবতীরা কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য না হোক।
অজিত পওয়ারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে শুভেন্দু একে লজ্জাজনক, সংকীর্ণ ও রাজনৈতিক অসংবেদনশীলতার পরিচয় বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভাবতে অক্ষম, যা বাংলার জন্য অত্যন্ত লজ্জার। উল্লেখ্য়, অজিতের মৃত্যুতে রাজনৈতিক রং লাগুক চান না খোদ শরদ পওয়ারও।












Click it and Unblock the Notifications