'তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী ঘরছাড়া', অভিযোগ শোভনদেবের, ঘরে ফেরাতে রাজি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, তবে দিলেন শর্ত
নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর থেকেই তাদের কর্মী-সমর্থকেরা জেলায় জেলায় আক্রান্ত, ঘরছাড়া বলে অভিযোগ করছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে জানান, এমন কেউ ঘরছাড়া বলে তাঁর জানা নেই। তবে যদি কেউ ঘরছাড়া হয়ে থাকেন তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর আশ্বাস দেন। তবে একইসঙ্গে শর্তও বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত না হয়েও কেউ ঘরছাড়া হলে, তাঁকে সসম্মানে ফেরানো হবে। আর যদি অভিযুক্ত হন, তাহলে তার জায়গা হবে জেলে।
প্রত্যাশামতোই শুক্রবার অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন শাসকদলের মনোনীত প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধী দল প্রার্থী না দেওয়ায় এবং তাঁর নামে সায় দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর শুরুতেই বক্তব্য পেশ করেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

তিনি সেখানে ভোট ও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হন। শোভনদেব অভিযোগ করেন, বিজেপির অত্যাচারে বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর দায়িত্ব নেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কিছু শর্তও বেঁধে দেন। বিরোধী দলনেতাকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "ভোট পরবর্তী হিংসায় কেউ ঘরছাড়া বলে আমার জানা নেই। তবে যদি আপনার কথা মেনে নিই, সেক্ষেত্রে আপনি ডিজিপির কাছে নামের তালিকা পেশ করুন যে কারা ঘরছাড়া।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, পেশ করা তালিকায় থাকা কেউ একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত হলে এবং তার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়ে থাকলে, তাকে ঘরে ফেরানো হবে না, গ্রেফতার করা হবে। অন্যথায়, যদি কেউ ঘরছাড়া হন এবং কোনও অভিযোগ না থাকে, তাহলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার নিজে গিয়ে ঘরে পৌঁছে দেবেন।












Click it and Unblock the Notifications