বিশেষ সম্প্রদায়ের উগ্র চরমপন্থী! নাগরাকাটায় হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর
নাগরাকাটায় আজ হামলার মুখে পড়তে হয় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিজেপি বিধায়ক তথায় বিধানসভায় বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষকে।
পাথরের আঘাতে চোখের উপর ও নীচে গুরুতর আঘাত লাগে খগেনের। গাড়ির জানালার কাচের টুকরে শঙ্করের শরীরের নানা জায়গায় বিঁধে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে তৃণমূলের মুখপাত্ররা বিষয়টিকে জনরোষ বলে চালাতে চাইলেও বিজেপির দাবি, এটি পরিকল্পিত হামলা। এরই মধ্যে ফেসবুক পোস্টে হামলাকারীদের চিহ্নিত করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, তৃণমূলের বিশেষ সম্প্রদায়ের উগ্র চরমপন্থীদের নাগরাকাটায় লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হামলাকারীদের নাম রমজান আলি, সৈফুল হক, আইনুল আনসারি ও পিঙ্কি খাতুন বলে দাবি শুভেন্দুর।
বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের উপর হামলার ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। সকলে শান্তি বজায় রাখুন। বন্যা কবলিত এলাকায় হঠাৎ কেউ ৩০-৪০টি গাড়ি নিয়ে গেলে মানুষ কষ্ট পান। তবে এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।
শুভেন্দু ফেসবুকে লিখেছেন, তৃণমূলের সেই এক 'সন্ত্রাসবাদ মডেল'। দেখুন কাদের ব্যবহার করা হয় আজকের নাগরাকাটায় সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষদের ওপর এই নির্মম প্রাণঘাতী আক্রমণ ঘটাতে। ঠিক যেই সব দুর্বৃত্তদের এনেছিল কোচবিহারের খাগড়াবাড়িতে আমার ওপর আক্রমণ করতে, সেই ভাবেই এখানেও একই ভাবে সেই 'বিশেষ সম্প্রদায়ের' কিছু উচ্ছৃঙ্খল আইন অমান্যকারীদের পরিকল্পিত ভাবে জড়ো করা হয় এই ঘৃণ্য অপরাধ-অরাজকতা ঘটাতে।
শুভেন্দুর কথায়, এরা নিজেরাই আতঙ্কিত যে মমতা সরকার চলে গেলে এদের বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাবে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কিত যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে এদের খোলা ছাড় দিতে হবে নয় তো এরাই কোনও দিন ঘটি উল্টে দেবে।
এরা একে অপরের পরিপূরক তাই রাজ্যে আইনের শাসন বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।
বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করে দিল্লিতে দলের সদর দফতরে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, এই প্রাণঘাতী হামলা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশেই হয়েছে। এটি রাজনৈতিক সহিংসতা। তৃণমূল শাসনের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে যে ধরনের সহিংসতা ও অন্যান্য ঘটনা ঘটছে, তাতে মনে হচ্ছে এটি হোসেন সোহরাওয়ার্দীর রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এটি আর শ্রী অরবিন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলা নয়।
সুধাংশু ত্রিবেদী এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অসংবেদনশীলতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ এলাকা যখন বন্যায় ভাসছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভিডিওতে কার্নিভালে মেতে থাকতে দেখা গিয়েছে। বাংলা ডুবছে, আর মমতা নাচছেন! সম্ভবত আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের দলের পরাজয় আঁচ করতে পেরেই বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতাদের উপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ পশ্চিমবঙ্গে যে জঘন্য ঘটনা ঘটেছে, তা গণতন্ত্রকে হত্যা করা। আমরা নিশ্চিত যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরেছেন এবং তাঁরা নির্বাচনে এর যোগ্য জবাব দেবেন।












Click it and Unblock the Notifications