ভোটের আগে চমক হুমায়ুন কবীরের, ১৮২ আসনে প্রার্থী দিয়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
ভোটের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন হুমায়ুন কবীর। বড় দলগুলির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এবার নিজের সংগঠন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রথম দফার তালিকা সামনে এনে চমক দিলেন তিনি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহকে ঘিরে তাঁর এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অন্দরে জোর আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
কলকাতায় আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁর দল মোট ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেবে। আপাতত মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তালিকা আগামী ২২ তারিখ, রবিবার দুপুরে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন। পাশাপাশি, কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রে মিমের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি, যা ভোটের অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে তাঁর নিজের লড়াই ঘিরে। ভরতপুর থেকে না লড়ে, তিনি এবার রেজিনগর ও নওদা এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই জেলায় দুটি আসন বেছে নেওয়ার কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকেই এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুরে লড়া কিংবা শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রিক লড়াইয়ের তুলনা টানছেন। তবে হুমায়ুনের লক্ষ্য ঠিক কার বিরুদ্ধে, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলেই মত বিশ্লেষকদের।
প্রার্থী তালিকায় একাধিক চমক রয়েছে। পূর্বস্থলী উত্তর থেকে বাপন ঘোষ, কান্দি থেকে ইয়াসিন হায়দার যিনি ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই হিসেবে পরিচিত এছাড়া বেলডাঙায় সৈয়দ আহমেদ কবীর, রতুয়ায় রয়াল ইসলাম, মালতীপুরে আবদুল মিনাজ শেখ, বৈষ্ণবনগরে মুসকরা বিবি ও মানিকচকে আবু শইদকে প্রার্থী করা হয়েছে। সুজাপুরে নাসিমুল হক ও ভরতপুরে সৈয়দ খুবাইব আমিন সাহেবের নামও তালিকায় রয়েছে।
এর পাশাপাশি বেহালা পূর্ব থেকে অনুপম রোহদগীর, ফরাক্কায় ইমতিয়াজ মোল্লা ও হরিহরপাড়ায় বিজয় শেখ লড়বেন। ভবানীপুর কেন্দ্রেও এক অবাঙালি মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার খবর মিলেছে, যা আলাদা করে নজর কাড়ছে।
নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরের এই প্রার্থী তালিকা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার। নতুন এই কৌশল কি ভোটের অঙ্ক বদলে দেবে, নাকি বড় দলগুলির লড়াইয়েই শেষ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।












Click it and Unblock the Notifications