সোশ্যাল মিডিয়ায় পাহাড় আন্দোলনের সমর্থনে জোর প্রচার, কী পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য
যে কোনও আন্দোলনে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। গোর্খাল্যান্ডের সমর্থনকারীরা তার সদব্যবহার করলেও, আন্দোলন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে পিছিয়েই রয়েছে রাজ্য
সোশ্যাল মিডিয়ায় গোর্খাল্যান্ডের সমর্থনে জোর কদমে চলছে প্রচার। রয়েছে একাধিক গ্রুপ। কিন্তু তার মোকাবিলায় কোনও দিশাই নেই রাজ্য সরকারের। গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকারীদের সোশ্যাল গ্রুপের বিরোধিতায় ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলিও।[আরও পড়ুন:পাহাড়ে নিষিদ্ধ ইন্টারনেট, নেপাল-ভূটান-এর লিঙ্কই হাতিয়ার মোর্চার]
উই ওয়ান্ট গোর্খাল্যান্ড। দাবির সমর্থনে দার্জিলিং-এ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ডাকে চলছে বনধ। দাবিকে সমর্থন করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। সমর্থন করেছেন নেপালের গোর্খারাও। এই সমর্থন পাহাড়ে, প্রতিবেশী রাজ্য কিংবা প্রতিবেশী রাষ্ট্রেই শুধু নয় সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে প্রচার। সেখানে শুধু কলকাতা কিংবা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী গোর্খারাই নন, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী গোর্খারা তাতে অংশ নিচ্ছেন।[আরও পড়ুন:রেডিওর গোপন সংকেত ভেঙে গুরুংদের অভিসন্ধি জানার চেষ্টায় পুলিশ]

ফেসবুক, হোয়াটাসঅ্যাপে একাধিক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। ফেসবুকে রয়েছে গোর্খাল্যান্ড সাপোর্টারস, উই সাপোর্ট গোর্খাল্যান্ড, সাপোর্ট গোর্খাল্যান্ড-সহ বিভিন্ন গ্রুপ। ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী গোর্খারাও তাতে মত প্রকাশ করছেন।
রাজ্য সরকার আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সেনা-পুলিশ নামিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু যে কোনও আন্দোলনে সোশ্যাল মিডিয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। গোর্খাল্যান্ডের সমর্থনকারীরা তার সদব্যবহার করলেও, আন্দোলন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে পিছিয়েই রয়েছে রাজ্য। শুরু রাজ্য সরকার নয়, কোথাও কিছু ঘটলেই যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ করেন, পান থেকে চুন খসলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁদের মত দেখা যায়, তাঁদের বেশির ভাগ অংশই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ। বলা যেতে পারে একেবারে দলমত নির্বিশেষে নিশ্চুপ। তৃণমূল, বাম কিংবা বিজেপি কেউই বাদ নেই এই তালিকা থেকে।
রাজ্যে কিংবা দেশে বড় কোনও ঘটনা নিয়ে ফেসবুক কিংবা ট্যুইটারে মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক কিংবা বিজেপির অনেকেই। কিন্তু দার্জিলিং নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কোন বয়ান সাম্প্রতিককালে চোখে পড়েনি। চোখে পড়েনি তথাকথিত তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীদের কোনও মতও। তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীরা কি দার্জিলিং-এ গোর্খাল্যান্ডের বিরোধিতায় কোনও গ্রুপ তৈরি করতে পারতেন না, প্রশ্নটা কিন্তু উঠছেই।
বামেদের ৩৪ বছর কিংবা তৃণমূলের ৬ বছর যে যখন ক্ষমতায় থেকেছেন, বিরোধীরা সরকারের দার্জিলিং নীতি নিয়ে সমালোচনা করছেন কিংবা করেছেন। কিন্তু দার্জিলিং-এ গোর্খাল্যান্ডের বিরোধিতায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কোন গ্রুপের কথা ছেড়ে দিন, বিষয়টি নিয়ে তাদের মতও চোখে পড়েনি এখনও।
আর সাধারণ মানুষদের কথা বলতে গেলে, অনেকেই দায়সারা ভাবেই তাদের মত প্রকাশ করছেন। এঁদের মধ্যে সমতলের মানুষ তথা কলকাতার মানুষরাও কম নেই। তাদের কাছে দার্জিলিংটা শুধুমাত্র একটা বেড়ানোর জায়গা। সেই দার্জিলিং রাজ্যের ভিতরে থাকল না বাইরে তা নিয়ে বিশেষ ভাবে ভাবিত নন তারা।












Click it and Unblock the Notifications