তৃণমূল জমানায় মধ্যযুগীয় স্বৈরতন্ত্রের নজির! আদিবাসী মহিলাদের দণ্ডি কাটানোয় রাষ্ট্রপতিকে চিঠি সুকান্তের
বাংলার পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে দলবদলের হিড়িক লেগেছে সম্প্রতি। সম্র্িতি দক্ষিণ দিনাজপুরের এক ঘটনা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফেরাতে দণ্ডি কাটানোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। আদিবাসীদের এই অপমান নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখলেন তিনি।
সুকান্ত মজুমদার এদিন রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে জানান, যদি গণতান্ত্রিকভাবে দলবদল বা যোগদান করানো হয় সেখানে বলার কিছু থাকে না। কিন্তু বিজেপিতে যাওয়ার অপরাধে তিন আদিবাসী মহিলাকে যেভাবে দণ্ডি কেটে তৃণমূলে ফিরতে হয়েছে, তা মহিলাদের অপমান, আদিবাসীদের অপমান বলে তাঁরা মনে করছেন।

তা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক তরজা চলছে। এবার রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের অমানবিক এই যোগদান নিয়ে রাষ্ট্রপতির দরবারে অভিযোগ করলেন সুকান্ত। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই মর্মে জানান, সুকান্ত মজুমদার অযথা কুৎসা করছে। তৃণমূল আগেই জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না।
তিনি আরও জানান, যখন শুভেন্দু অধিকারী জঙ্গল কন্যা বীরবাহা হাঁসদার মতো এক আদিবাসী মহিলার সম্বন্ধে বলেছিলেন আমার জুতার তলায় থাকে, তখন কোথায় ছিল সুকান্তবাবুর মানবিকতাষ। যখন কৈলাশ বিজয়বর্গীয় মহিলাদের শূর্পণখা বলেছিলেন, রাক্ষসী বলেছিলেন তখন তো তিনি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লেখেননি। চিঠি তো দূরের কথা বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেননি।

সম্প্রতি দলবদলের অভিনব এক ছবি দেখা যায় দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে। বৃহস্পতিবার তপনের গোফানগরে বিজেপির যোগদান কর্মসূচিতে ২০০ মহিলা বিজেপিতে যোগদান করেন। তাঁদেরই তিনজন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরেন পরদিনই তাঁরা দণ্ডি কেটে বিজেপিতে যাওয়ার প্রায়শ্চিত্ত করেন। এক কিলোমিটার দণ্ডি কেটে তৃণমূলে যোগ দেন।
এই ঘটনায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ করে জানান, আদিবাসী মহিলাদের ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের গুণ্ডারা দলে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। আর শাস্তি হিসেবে তাদের গিয়ে দণ্ডি কাটানো হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই মর্মে আদিবাসীদের অপমান করার অভিযোগ করেন তিনি। তার পাশাপাশি তিনি প্রতিবাদে গর্জে ওঠার ডাক দেন।

এবার তিনি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে এই ঘটনার বিহিত চাইলেন। তৃণমূলের ভালো মানুষির মুখোশ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। তিনি এই মর্মে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ দাবি করে জানান, তৃণমূল আদিবাসী মহিলাদের অপমান করেছে, অত্যাচার করেছে। এই ঘটনা তৃণমূল জমানায় মধ্যযুগীয় স্বৈরতন্ত্রের নজির। এই ধরনের স্বৈরাচারী মনোভাব বন্ধ হওয়া দরকার।
দক্ষিণ দিনাজপুর মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ্তা চক্রবর্তী জানিয়ছিলেন, ২০০ জন নয়, তার থেকে অনেক কম সংখ্যক মহিলা যোগদান করেছিলেন বিজেপিতে। তাঁদের বেশিরভাগই ফিরে এসেছেন তৃণমূলে। তাঁদের ভুল বুঝিয়ে নিযে যাওয়া হয়েছিল। ভুল বুঝতে পেরে তারা ফিরে আসেন। বিবেক দংশনে ভুগছিলেন তাঁরা। তাই নিজেরাই বিজেপিতে যাওয়ার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে দণ্ডি কাটেন।












Click it and Unblock the Notifications