বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক করতে নয়া নীতি, জেলায় জেলায় তৈরি হবে 'হোল্ডিং সেন্টার'
শুভেন্দু অধিকারী সরকার অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য '৩ডি’ (Detect, Delete, Deport) নীতি প্রয়োগ শুরু করল। এরই অংশ হিসেবে রাজ্য সরকার জেলায় জেলায় ডিটেনশন সেন্টারের আদলে 'হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশিকা জারি করেছে। এর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের সনাক্তকরণ, অপসারণ এবং নিজ দেশে পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে প্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে এই হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে রাখা হবে। একই অভিযোগে এতদিন কারাবন্দি থাকা ব্যক্তিদেরও প্রথমে এই কেন্দ্রগুলিতে এনে পরে ওপারে পুশব্যাক করা হবে। এই পদক্ষেপ সীমান্ত সুরক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনের কেন্দ্রীয় নীতিকে অনুসরণ করে করা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী এর আগেই জানিয়েছিলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ধরপাকড়ের পর বিচার প্রক্রিয়ায় আনার প্রশ্ন নেই। নতুন নোটিস অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখবে এবং তারপর সোজা ওপারে পুশব্যাক করবে, যাতে কোনও বিচার সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো যায়।
অনুপ্রবেশ ইস্যুটি কেন্দ্রীয় বিজেপির কাছে বরাবরই বাংলার বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ। নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ, শীর্ষ নেতারা বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেছেন। এমনকী, বিধানসভা নির্বাচনেও এটি একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল, যা বিজেপিকে রাজ্যে তাদের নীতি প্রচারে সাহায্য করে।
স্মরণীয় যে, ২০২৫ সালে কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিলেও, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি তখন বলেছিলেন, "বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। এখান থেকে কাউকে তাড়ানো হবে না। সবাই নাগরিক।"
বিজেপি বিরোধিতায় সেদিন কোনও সেন্টার তৈরি হয়নি। তবে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই এখন কেন্দ্রের পুরোনো নীতি মেনে ডিটেনশন ক্যাম্পের আদলে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হল, যা পূর্বের রাজনৈতিক অবস্থানের এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।












Click it and Unblock the Notifications