Sukanta Majumdar: “ভাইপো নেই কেন?” মমতা ও চাকরিহারাদের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন সুকান্তর, OMR নিয়ে বিস্ফোরক দাবি
Sukanta Majumdar: নেতাজি ইন্ডোরে চাকরিহারাদের নিয়ে মমতার বৈঠকে চিড়ে ভেজেনি। চাকরি বাতিলের নোটিস না আসা পর্যন্ত আপাতত স্বেচ্ছায় শ্রম দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এনিয়ে মমতাকে তীব্র আক্রমণ সুকান্ত মজুমদারের। মমতাকে সিভিক মুখ্যমন্ত্রী বলে খোঁচা বিজেপির রাজ্য সভাপতির। চাকরিহারাদের নিয়ে বৈঠকে অভিষেকের অনুপস্থিতি নিয়েও কড়া আক্রমণ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর।
সুকান্তর দাবি, "এসএসসি শুনানিতে দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টতই জানিয়েছে, সম্পূর্ণ কভার-আপ করা হয়েছে। যে শব্দ ব্যবহার করেছে আদালত, তাতে অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী থাকলে ২-৩ দিন মুখ দেখাতে পারবেন না। অথচ নেতাজি ইন্ডোরে মুখ্যমন্ত্রী রেগে গেলেন। বললেন শুনলে শুনুন, নাহলে বেরিয়ে যান। পশ্চিমবঙ্গবাসী আপনারই শুনছেন, আপনারই মুখ দেখছেন। কোণায় কোণায় তো আপনারই মুখ।"

এরপরই অভিষেক প্রসঙ্গ টেনে তুমুল আক্রমণ সুকান্তর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, "অবাক হয়ে গেলাম ভাইপো পাশে নেই, সাথে নেই। সে তো আজকে আপনার পাশে বসে থাকত। নেই কেন? কাকুর রেকর্ডিং সবাই শুনেছি, কে কত ভাগ নেয় স্পষ্ট বলা আছে। পার্থ লোভী, ওকে ২৫ শতাংশ দিতে হবে, শোনা গিয়েছে। কেউ ২৫ কোটি, কেউ ২০ কোটি নিয়েছে। সেখানে অভিষেক বলে বারবার নাম এসেছে।"
অভিষেকের নাম করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, "কালীঘাটের কাকুর অডিও রেকর্ডে অভিষেক ব্যানার্জি, অভিষেক চ্যাটার্জি না অভিষেক বচ্চনের কথা বলা হয়েছে? অভিষেক বচ্চনকে নিশ্চয়ই টাকা দিতে যাবেন না। স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কে। অথচ আজকে তিনি নেই কেন সামনে? বিজেপি রাজ্য সভাপতি হিসেবে বলছি না, মাস্টারমশাই হিসেবে বলছি, জেলের বাইরে থাকার যোগ্যতা নেই আপনার ও সরকারের।"
এদিন নেতাজি ইন্ডোর থেকে চাকরিহারাদের ভলান্টিয়ারি ওয়ার্ক করতে বলেছেন মমতা। সেপ্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, "আগে রাজ্যের মন্ত্রিসভাকে বলুন ভলান্টিয়ারি করতে। চোর মন্ত্রিসভা, চোরেরা যতদিন বসে থাকবে, ততদিন সমস্যা। প্রাইমারি ৩২ হাজার চাকরি ঝুলে, বিচারপতি ভয়ে সরে গেছেন। অযোগ্য লোক যখন বসে, তখন এরকমই হয়। বাংলার মানুষ ভুল করেছে। সুপার নিউমেরারি পদ নিয়েও আদালতের শুনানিতে আরও দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে।"
এসএসসির ওএমআর ও মিরর ইমেজ কারও না কারও কাছে লুকিয়ে রাখা আছে বলে বিস্ফোরক দাবি সুকান্তর। তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা সরকারকে চাপ দিয়ে বের করুন। মমতার বিরুদ্ধে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতকে অবমাননারও অভিযোগ আনেন বালুরঘাটের সাংসদ। বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী সংবিধান মানবেন না, সুপ্রিম কোর্ট মানবেন না, আর মধু খাবেন শুধু, মামারবাড়ির আবদার করতে হলে বাংলাদেশে যান।"
মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থাকে শেষ করে দিয়েছেন বলে কটাক্ষ সুকান্তর। এর ফলে আগামী অনেক প্রজন্ম ধুঁকবে বলেও আশঙ্কা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর। তাঁর আরও দাবি, মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখেছে অযোগ্যরা। আদালতের কাছ হাতজোড় করে প্রার্থনা করছি, যারা চাকরি চুরি করেছে, তাদের জেলে ঢোকাবে, জেলের বাইরে এদের থাকার অধিকার নেই।
মুখ্যমন্ত্রী নিজের চুরি ঢাকতে বিজেপিকে বারবার টানছেন বলেও এদিন অভিযোগ করেন সুকান্ত। বলেন, "কালীঘাটের কাকু তো সুকান্ত, দিলীপ, শুভেন্দুর নাম নেননি, অভিষেক, পার্থ, মানিককে টাকা দিতে হবে বলেছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাঁর কোটায় চাকরি হবে। কার কোটা, কে কোটা দিয়েছে? তারপরেও শিক্ষামন্ত্রী কীকরে পদে থাকেন? সিবিআইয়ের ধরা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী সিভিক মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গেছেন। বাংলার মানুষ বুঝে গেছেন দিদি কী জিনিস, ছাব্বিশেই ফিনিশ।"












Click it and Unblock the Notifications