Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

পরকীয়াই কী মৃত্যুর কারণ? বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ, তদন্তে SIT, পলাতক সাব-ইন্সপেক্টর সাসপেন্ড

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার কোয়ার্টারের ভিতর থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে এক মহিলা হোমগার্ডের ঝুলন্ত দেহ। মৃতার নাম গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমি। বয়স ২২ বছর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের তরফ থেকে সরাসরি থানার এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ওই মহিলা ক্যানিং থানায় হোমগার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

SIT -

গতকাল সকালে থানার পিছনের দিকের একটি কোয়ার্টার থেকে রেশমির দেহ উদ্ধার হয়। সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাঁর দেহ ঝুলছিল। প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হলেও, পরিবারের অভিযোগ সামনে আসার পরেই সেই ঘটনার তদন্ত নতুন মোড় নেয়।

মহিলাটির পরিবারের দাবি যে, ক্যানিং থানার সাব-ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্যের সঙ্গে রেশমির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে যাওয়ার পরেই রেশমিকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এই অভিযোগের ভিত্তি করেই খুনের মামলা রুজু করা হয়। তারপরেই তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ।

ঘটনার পরই জেলা পুলিশের তরফ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের নির্দেশে সাব-ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে অনুমান করা হচ্ছে যে, রেশমির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছেন।

তদন্তে গতি আনার জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। আর এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত। পুলিশ জানিয়েছে যে, সম্পূর্ণ ঘটনার প্রত্যেকটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, গত শুক্রবার ডিউটি শেষ করার পরে তিনি থানার পিছনের দিকে থাকা পুলিশ কোয়ার্টারে যান। তারপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর আর কোনোরকমের যোগাযোগ হয়নি। ফোনে বহুবার চেষ্টা করার পরেও রেশমি ফোন ধরেননি। শনিবার সারাদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁর কোনও খবর পাওয়া যায়নি। শনিবার সারাদিন একই অবস্থা থাকায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

শেষমেশ উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছনোর পরে রেশমির পরিবারের লোকজন গতকাল ক্যানিং থানায় যান। তারপরে মৃতার বোন রুকসানা খাতুন সরাসরি কোয়ার্টারে গিয়ে দরজা খোলেন। দরজা খুলতেই সামনে আসে ভয়ঙ্কর দৃশ্য। ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছিল রেশমির নিথর দেহ। রুকসানার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারপর খবর দেওয়া হয় থানায়।

উল্লেখ্য, বপ্রসঙ্গত, প্রায় দু'বছর আগে পঞ্চায়েত ভোটের সময় ভাঙড়ে গিয়ে খুন হয়েছিলেন রেশমির বাবা রশিদ মোল্লা। সেই ঘটনার পরেই পরিবারকে সাহায্য করার জন্য হোমগার্ডের চাকরি পেয়েছিলেন রেশমি। এখন তাঁর রহস্যমৃত্যুতে পুরো পরিবার আবারও ভেঙে পড়েছে।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ এবং উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, সম্পূর্ণ বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের উপরেই নির্ভর করছে যে, এটি আত্মহত্যা নাকি খুন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+