আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তর্কের ঝড়, মৌলিক অধিকার ঘিরে কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে
দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলাকে ঘিরে নতুন করে জটিল সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠে এল। বুধবার শুনানি শুরু হতেই সময় চাওয়ার আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। তবে সেই আবেদন ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সময় বৃদ্ধির বিরোধিতা করে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মামলা পিছিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ কোথায়? বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর পর্যবেক্ষণও ছিল কড়া "চার সপ্তাহ সময় পেয়েও কেন এখনও জবাব দেওয়া হয়নি?"

এদিন রাজ্যের তরফে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই মূল আপত্তি তোলা হয়। বর্ষীয়ান আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী স্পষ্ট জানান, প্রথমে মামলার বৈধতা নিয়েই শুনানি হওয়া উচিত। তবে আদালতের সাফ বক্তব্য যা নথিতে রয়েছে, তা নিয়েই শুনানি এগোবে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন রাজ্যের আরেক আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি কোনও ব্যক্তি বা কর্পোরেট সত্তা নয়, ফলে তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নই ওঠে না। সেই যুক্তিতেই তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় সংস্থা আদৌ কি এমন মামলা করতে পারে?
একইসঙ্গে সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে শ্যাম দিওয়ান দাবি করেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্য অন্তত পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের যুক্তি দুই সপ্তাহ আগেই অতিরিক্ত হলফনামা জমা পড়েছে, তবুও সময় চাওয়া হচ্ছে যা অস্বাভাবিক। এমনকি এক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলা হয়।
তবে আইপ্যাক মামলা এখন কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক ও মৌলিক অধিকারের ব্যাখ্যা ঘিরে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্কের রূপ নিচ্ছে। এখন নজর, শীর্ষ আদালত এই জটিল প্রশ্নে কী দিশা দেখায়।












Click it and Unblock the Notifications