চিংড়িঘাটা মেট্রোর জট কাটাতে কড়া বার্তা, দ্রুত সমাধানে ফের বৈঠকের নির্দেশ হাই কোর্টের
নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর স্বপ্নপথে চিংড়িঘাটা যেন বারবারই 'বটলনেক'। আর সেই জট ছাড়াতে কলকাতা হাই কোর্ট ফের কড়া বার্তা দিল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ "অযথা দেরি নয়, একসঙ্গে বসে সমাধান বার করুন। কখনও তো কাজ করতেই হবে!"
গত কয়েক মাস ধরে চিংড়িঘাটার মাত্র ৩৬৬ মিটারের কাজ আটকে থাকায় পুরো করিডরই প্রায় থমকে। সেই সিদ্ধান্তহীনতার রেশ টেনে বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, আলোচনা ছাড়া উপায় নেই, আর সেই আলোচনা হতে হবে খোলা মনেই।

যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের আপত্তি, আদালতের পালটা প্রশ্ন তাহলে কাজ কবে?
রাজ্যের যুক্তি, চিংড়িঘাটার মতো ব্যস্ত মোড় বন্ধ করে দিলে শহরের অর্ধেক রাস্তায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হবে। অ্যাম্বুল্যান্স থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিপর্যয় নেমে আসবে।
কিন্তু আদালতের পালটা পর্যবেক্ষণ ছিল আরও তীক্ষ্ণ
"রাস্তায় গাড়ির চাপ কোনও দিনই কমবে না। তাহলে এই প্রকল্প কখন এগোবে? কাজ তো কোনও না কোনও সময় করতেই হবে।"
ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্যে পরোক্ষ বার্তাও স্পষ্ট যে পরিস্থিতিতে শহরবদ্ধ জীবন চলেছে, সেখানে 'পারব না' বলে পিছিয়ে থাকলে মেট্রোর ভবিষ্যৎও সঙ্কটে পড়বে।
আগের বৈঠকে সমাধান না হলেও, আদালতের নির্দেশে আবার টেবিলে বসবেন সকলেই
বুধবারই কেন্দ্র, রাজ্য, পুলিশ ও আরভিএনএল প্রতিনিধিদের নিয়ে এক দফা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনও নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হয়নি। তাই আদালত জানিয়ে দিল আরও একবার বৈঠক হোক,ও তাতে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত।
নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো চলছে। কিন্তু বিমানবন্দর পর্যন্ত চলাচল শুরুর সম্ভাবনা বারবারই থমকে যাচ্ছে চিংড়িঘাটার কারণে। ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ বন্ধ। নভেম্বরেই কাজ শুরুর কথা ছিল, কিন্তু মেট্রো কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পুলিশের অনুমোদনই মেলেনি। সেই বিতর্কও আদালতে ওঠে।
হাই কোর্টের কড়া মন্তব্য প্রশাসনিক অদক্ষতা ও পারস্পরিক দোষারোপে প্রকল্প কেন জিম্মি থাকবে?
আড়াই বছর ধরে আটকে থাকা কাজে এবার গতি আনতেই হবে
সাধারণ মানুষের স্বার্থেই মেট্রোর কাজ দ্রুত শেষ হওয়া জরুরি। তাই আদালতের নির্দেশ একটাই
সব পক্ষ হাত মিলিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পথ খুঁজুন।
অন্যথায় চিংড়িঘাটা যে কলকাতার মেট্রো মানচিত্রে আরও দীর্ঘদিন 'অবরুদ্ধ অঞ্চল' হয়ে থাকবে, সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Click it and Unblock the Notifications