মহাত্মা গান্ধীর নামে রাজ্যের কর্মসংস্থান প্রকল্পের নতুন নামকরণ‘কর্মশ্রী' তে বাড়তি কাজের দিনের আশ্বাস মমতার
লোকসভায় কেন্দ্রের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান বিল পাশ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান প্রকল্প 'কর্মশ্রী' এর নাম পরিবর্তন করে মহাত্মা গান্ধীর নামে রাখা হবে। তাঁর কথায়, জাতির জনকের নাম জাতীয় কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে তিনি লজ্জিত।
কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মহাত্মা গান্ধীর নাম যদি সম্মান না পায়, তবে আমরা দেব। জাতির জনকের নাম মুছে ফেলা সত্যিই লজ্জার।" তিনি স্পষ্ট করে জানান, কেন্দ্র যদি সম্মান না দেখায়, রাজ্য নিজেই সেই দায়িত্ব নেবে।

এই ঘোষণার সময়ই লোকসভায় পাশ হয়েছে 'বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)' বা ভিবি-জি রাম জি বিল, যা ২০০৫ সালের মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন (এমজিএনআরইজিএ) কে কার্যত প্রতিস্থাপন করতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে এমজিএনআরইজিএ এর বরাদ্দ আটকে রাখলেও রাজ্য সরকার নিজেদের তহবিলেই 'কর্মশ্রী' প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের বছরে সর্বোচ্চ ৭৫ দিনের কাজ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে তা বাড়িয়ে ১০০ দিনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা নিজেরা বহু কর্মদিবস তৈরি করেছি। কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও মানুষকে কাজ দেওয়া হবে। আমরা কারও কাছে ভিক্ষা চাই না।"
এদিকে সংসদ চত্বরে জি রাম জি বিলের প্রতিবাদে সরব হয় বিরোধীরা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে সংসদের ভেতরেই মিছিল করেন একাধিক বিরোধী সাংসদ। প্রেরণা স্থলের গান্ধী মূর্তি থেকে মকর দ্বার পর্যন্ত 'মহাত্মা গান্ধী এমজিএনআরইজিএ' লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে।
এই প্রতিবাদে অংশ নেন সোনিয়া গান্ধী, কেসি বেণুগোপাল, ডিএমকের কানিমোঝি, টি আর বালু, এ রাজা, আইইউএমএলের ই টি মহম্মদ বশির, শিবসেনা (ইউবিটি) এর অরবিন্দ সাওয়ান্ত, আরএসপি এর এন কে প্রেমচন্দ্রন সহ একাধিক নেতা।
মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, "মোদী সরকার শুধু মহাত্মা গান্ধীকেই অপমান করেনি, গ্রামীণ ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি কাজের অধিকারকেও ধ্বংস করেছে।"
বিরোধীদের দাবি, নতুন বিলের মাধ্যমে এমজিএনআরইজিএ এর মূল ভাবনা ও আইনি সুরক্ষা দুর্বল করা হচ্ছে। যদিও বিল অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় গ্রামীণ পরিবারের জন্য বছরে ১২৫ দিনের মজুরি ভিত্তিক কাজের আইনি নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে ও আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যগুলিকে সেই অনুযায়ী নিজস্ব প্রকল্প তৈরি করতে হবে।
সব মিলিয়ে, কর্মসংস্থান ও মহাত্মা গান্ধীর নাম ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।
-
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা












Click it and Unblock the Notifications