এসআইআর এর কাজ আজ থেকে শুরু, আজ থেকেই বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলি শুরু করেছেন,নিরাপত্তা চেয়ে অনিশ্চয়তায় বিএলও-রা
রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়া। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা বিতর্ক, উদ্বেগ, এমনকি কয়েকটি অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্কের আবহের মাঝেই আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলি শুরু করলেন ব্লক স্তরের নির্বাচনকর্মী বা বিএলও-রা।
গত এক সপ্তাহ ধরে বিএলও দের প্রশিক্ষণ পর্ব চলেছে, যেখানে তাঁদের দায়িত্ব, তথ্য সংগ্রহ, আবেদন যাচাই ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হয়। তবে প্রশিক্ষণ চলাকালীনই তাঁরা দাবি জানান এই কাজের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কাজ করা সম্ভব নয়। কিছু এলাকায় জনরোষ বা ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা থাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা সহ তিনটি দাবি জানানো হয়েছিল কমিশনের কাছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব রাজ্যের, আলাদা বাহিনী দেওয়া হবে না। ফলে অনিশ্চয়তা মনেই দায়িত্ব পালনের কাজে নামছেন বিএলও-রা।

৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি ও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ বা আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হবে। ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হবে। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
এরপরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পথ খুলে যাবে।
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল
এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপ। তৃণমূলের দাবি একজন বৈধ ভোটারও যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
কিন্তু এসআইআর নিয়ে উদ্বেগে কিছু মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবির অভিযোগ তুলেছে 'ভোটারের মনে ভয় তৈরি' করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আজই পথে নামছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, "ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।"
অন্যদিকে ২০০২ সালের এসআইআর তথ্যকে ভিত্তি ধরে নতুন সংশোধন প্রক্রিয়া এগোবে। ফলে কোথাও কোথাও পুরনো তথ্য, ঠিকানা বদল, বা নথি প্রস্তুতি এসব ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো বহু প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে।
এখন দেখার বিষয় এই এক মাসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলির কাজ কতটা নির্বিঘ্নে হয়, মানুষ কতটা সহযোগিতা করেন, আর রাজনৈতিক ময়দানে এই প্রক্রিয়া কোন দিকে নিয়ে যায় সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।












Click it and Unblock the Notifications