Murshidabad: "খুনের শাস্তি চাই," মমতার ঘোষিত ক্ষতিপূরণ নেবেন না হরগোবিন্দ-চন্দনের পরিবার

Murshidabad: হিংসার আগুনে খুন হতে হয়েছে স্বজনদের। আচমকাই ঘরে ঢুকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বাবা ও ছেলেকে। জাফরাবাদের সেই হাড়হিম ঘটনায় শোকাতুর নিহত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের পরিবার। বুধবার নেতাজি ইন্ডোরে ইমামদের সভা থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তা নেবেন না বলেই জানিয়ে দিল হরগোবিন্দ ও চন্দন দাসের পরিবার।

কোথা থেকে কী হয়ে গেল, বুঝেই উঠতে পারছে না পরিবার। বাড়ির দুই সদস্যের নৃশংস হত্যার পর যেন ঝড় বয়ে গিয়েছে। এখনও ভয়ে কাঁটা হরগোবিন্দ ও চন্দনের পরিবার। স্থানীয়রাও ভয়ে রয়েছেন। এমতাবস্থায় পরিবারের দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে কী হবে? টাকা নেওয়ার পর আবার তো যেইকে সেই। স্থায়ী সমাধান দরকার। চোখে মুখে রাগ ও ক্ষোভের ছাপ স্পষ্ট নিহতদের পরিবারের সদস্যদের।

পরিবারের দাবি, "এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী দরকার। পাকাপাকি ক্যাম্প হোক। ক্ষতিপূরণ চাই না, বরং শাস্তি চাই। সেদিন যারা খুন করতে এসেছিল, সবার মুখ ঢাকা ছিল। তাদের কাউকে চিনতেও পর্যন্ত পারিনি। আমরা চাই তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।" পেশায় মৃৎশিল্পী ছিলেন বাবা হরগোবিন্দ ও ছেলে চন্দন। দেবদেবীদের প্রতিমাও বানাতেন তারা। সিপিএমের অবশ্য দাবি, নিহতরা তাদের পার্টির সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ে না গিয়ে বিজেপি বলছে, স্রেফ হিন্দু হওয়াতেই খুন হতে হয়েছে তাদের।

বুধবার আদ্যশ্রাদ্ধ ছিল নিহত হরগোবিন্দ ও চন্দনের। পরিবারের সদস্যরা জানান, খুনের ঘটনায় এমনই আতঙ্ক এলাকায় বিরাজ করছে যে শ্রাদ্ধের কাজে কেউ এগিয়ে আসেননি। পুরোহিত পাওয়া যায়নি। ভয়ে আসেনি কোনও ক্ষৌরকারও। কীর্তনের দলের সাহায্যে কোনওমতে নিজেরাই কাজ সেরেছেন। পরিবারের এখনও আফসোস, পুলিশ সময় মতো চলে এলে এই দিন দেখতে হত না।

গত ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাগে হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। বাড়ি থেকে তাদের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ২ ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম কালু নাদাব ও দিলাবর নাদাব। ADG দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছিলেন, ধৃতদের বীরভূমের মুরারই থানা এলাকা ও মুর্শিদাবাদের সুতির বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

Take a Poll

প্রসঙ্গত, বুধবার ওয়াকফ ইস্যুতে ইমাম মোয়াজ্জেমদের নিয়ে নেতাজি ইন্ডোরে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন, মুর্শিদাবাদে হিংসায় যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যাদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, তাদের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বাড়ি করে দেওয়া হবে। এছাড়াও যাদের দোকানপাট ভেঙে গিয়েছে, তাদেরকেও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে রাজ্য। মমতার ঘোষিত সেই ক্ষতিপূরণই নিতে নারাজ সামশেগঞ্জের জাফরাবাদের নিহতদের পরিবার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+