বিএলওদের উপর চাপ তৈরি করছে তৃণমূল, দাবি শমীকের
মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম আপলোড করতে বিএলওদের উপর চাপ দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনই অভিযোগ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
আগামী সপ্তাহে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অফিসে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শমীক বলেন, মুর্শিদাবাদের মানুষ আজও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। পাঁচ পুরুষ ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বিহারের মানুষদেরও রাজ্য ছাড়তে হচ্ছে-এর জন্য দায়ী কে? তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস বলেছিল তারা পশ্চিমবঙ্গে SIR কার্যকর হতে দেবে না, কিন্তু এখন তারাই বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কব্জা করছে। পুলিশ ও সাইবার সেল ব্যবহার করে CAA নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং অন্যদিকে পঞ্চায়েত, পার্টি অফিস ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে BLOদের ওপর ভুয়ো তথ্য আপলোডের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব নাম শেষ পর্যন্ত বাদ যাবে এবং সরকারি কর্মচারী হিসেবে BLOদের জেল ও চাকরি হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "যে ব্যক্তি তিন সন্তানের বাবা ছিলেন, হঠাৎ তিনি তেরো সন্তানের বাবা হয়ে গেলেন।" এমনকি BLOদের চাপ দিয়ে বলা হচ্ছে-এ পর্যন্ত যা আপলোড হয়েছে তা বাদ দিয়ে এখন থেকে মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম আপলোড করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে SIR চলছে এক ভীতিকর পরিবেশে, যেখানে BLOরা ক্রমাগত ভুয়ো তথ্য আপলোডে বাধ্য হচ্ছেন। তবুও সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে SIR-কে সমর্থন করে সফল করেছেন।
তিনি আরও বলেন, কৌশলগত অবস্থান ও ভৌগোলিক কারণে পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যটির বাংলাদেশ সীমান্ত ২২০০ কিমি। আগের দুই সরকার এই রাজ্যে অনুপ্রবেশকে উৎসাহজনক পরিবেশ তৈরি করেছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এক সময় ফরওয়ার্ড ব্লকের এক বিধায়ক মহারাষ্ট্র সরকারের শনাক্ত করা এক অনুপ্রবেশকারীকে উলুবেড়িয়া স্টেশন থেকে প্রায় ছিনিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এক সময় বলেছিলেন, অনুপ্রবেশ মানবিকতার সঙ্গে দেখা উচিত, কারণ মানুষ দুর্বল অর্থনীতি থেকে শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ এক নাটক সাজাচ্ছে-যেখানে কিছু মানুষ নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করে তাদের দেশে ফেরত যেতে চাইছেন। কিন্তু রাজ্য সরকার জানাচ্ছে না, কারা এখনও এখানে অবস্থান করছে-এটি অত্যন্ত গুরুতর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমস্যা।
তিনি বলেন, মুখ্য সচিব যদিও BLO দের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা বাস্তবে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO) রাজ্য সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং অসহায়তার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "SIR বন্ধ হলেও, ED-CBI অফিস সিল করলেও, এমনকী ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা দিয়ে ভোট হলেও-২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে হারবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, আজ দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের দলীয় হিংসার শিকার। হাওড়ায় তপন দত্তকে তার নিজের দলই হত্যা করেছিল; সেই মামলার চার্জশিটভুক্ত বাবু মণ্ডলকেও এখন তৃণমূল নিজেরাই খুন করেছে-রাজ্যে এক ভয়ঙ্কর অরাজকতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের BLO করা হয়েছে এবং তাঁরা তথ্য জালিয়াতির চেষ্টা করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তৃণমূল আগামী নির্বাচনে নিশ্চিহ্ন হবে এবং যাঁরা চুক্তিভিত্তিক কর্মী, তাঁদের এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককে মহিলারা ঘেরাও করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন-"যাঁরা কমিশন দফতর ঘেরাও করেছিলেন তাঁরা কতজন স্কুল শিক্ষিকা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা সরকারি কর্মচারী, আর কতজন তৃণমূল কর্মী?" বিজেপি সক্রিয়ভাবে SIR-এ অংশ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রায় ১৩.২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম কমিশনকে দিয়েছে। তিনি বলেন, "কেউ কেউ বাবরি মসজিদ তৈরির কথা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে কোনও মন্তব্য আসেনি। ফলে এটি তৃণমূল কংগ্রেসেরই অ্যাজেন্ডা বলে ধরা যায়।" তিনি প্রশ্ন তোলেন-বুদ্ধিজীবীরা কি জানতে চাইছেন না কেন বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা হয়, হিন্দু নারীরা ধর্মান্তরিত হয়, হিন্দু মন্দির ভাঙচুর হয়? পশ্চিমবঙ্গে তেমনই একটি মডেল তৈরি করার চেষ্টা চলছে-মুর্শিদাবাদ এর প্রমাণ, এবং TMCP নেতার হাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানোর ঘটনাও সেই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।












Click it and Unblock the Notifications