দুর্গাপুজোর অনুদান বাড়লেও দক্ষিণার হাল খুব খারাপ! ক্ষোভ বাড়ছে পুরোহিতদের
দুর্গাপুজোয় বিভিন্ন ক্লাব, বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এবার এক লাফে তা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই উদ্যোগ হাসি ফোটাতে পারছে না পুরোহিতদের মুখে!

একদিকে পুজোর আয়োজকরা অনুদান পাচ্ছেন, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদাও তোলা হচ্ছে। কিন্তু জাঁকজমক বাড়ছে মণ্ডপ তৈরি, আলোকসজ্জা, প্রতিমার ক্ষেত্রে। পুরোহিতরা যে তিমিরে ছিলেন সেই তিমিরেই রয়েছেন। যে হারে অনুদান বা চাঁদা বাড়ছে সেই তুলনায় তেমন বাড়়ছেই না পুরোহিতদের পারিশ্রমিক বা দক্ষিণা।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে পুরোহিতদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। নিজেদের এলাকায় তেমন দক্ষিণা না মেলায় জেলার পুরোহিতরা রায়গঞ্জ, মালদা, এমনকী শিলিগুড়িতে কাজের খোঁজে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। পুরোহিতদের দাবি, উদ্যোক্তারা বড় মাপের মণ্ডপ করে প্রতিমা এনে পুজোয় মাতছেন। তবে সকলের মঙ্গলকামনায় সারাদিন উপোস থেকে পুজো করা পুরোহিতদের টাকা দেওয়ার সময়ই যেন হাতে টান পড়ছে!পুরোহিতদের আক্ষেপ, বর্তমানে আধ্যাত্মিকতার তুলনায় জাঁকজমক ও পুরস্কার নেওয়াটাই যেন বড় হয়ে যাচ্ছে।
বালুরঘাটের নামাবঙ্গীর পুরোহিত দেবেন্দ্রনাথ মৈত্র প্রায় ৪০ বছর ধরে পুজো করছেন। তাঁর কথায়, পুজো উদ্যোক্তারা মণ্ডপ, প্রতিমা, আলো-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাজেট বাড়াচ্ছেন। কিন্তু আমাদের দক্ষিণা সেই হারে বাড়ছে না। এখন বাজারে সব জিনিসের দাম ঊর্ধ্বমুখী। যাঁরা পুজো করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁদের পক্ষে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে উঠেছে। আমরা দুর্গাপুজোর দিকে তাকিয়েই সারা বছর অপেক্ষা করে থাকি। তাই আমাদের অনুরোধ পুজো উদ্যোক্তারা যেন আমাদের দক্ষিণার ক্ষেত্রেও বাজেট যেন বাড়ান। এর মধ্যে আবার পুজোর উপকরণ সাজানো থেকে শুরু করে সহকারীদের টাকাও তাঁদেরই দিতে হয় বলে জানালেন এই পুরোহিত।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রায় দেড় হাজার পুরোহিত রয়েছেন। যাঁরা দুর্গাপুজো, কালীপুজো-সহ একাধিক পুজো করেন। অনেক আচার অনুষ্ঠান মেনে দীর্ঘ সময় ধরে পুজো করতে হয়। দক্ষিণা বাড়ানোর বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের পুরোহিত কল্যাণ সমিতির জেলা সম্পাদক প্রদীপ ভাদুড়ি বলেন, চারদিকে জাঁকজমক করে পুজো হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তারা বিভিন্ন খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। কিন্তু আমাদের দক্ষিণা সেই অনুপাতে মেলে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দু'-তিন হাজার টাকার মধ্যেও পুজো সারতে হয়। যেহেতু আমাদের দক্ষিণা নির্দিষ্ট করা নেই তাই পুজো উদ্যোক্তারা আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে যে যেমন পারে সেভাবেই আমাদের দেয়। তবে মণ্ডপ, আলো, প্রতিমায় অর্থ খরচের সঙ্গে আমাদের দিকটিও দেখা হোক, সেটাই চাই। আবার অনেকের মতে, প্যান্ডেল বা প্রতিমা ভালো হলে পুরস্কার পাওয়া যায়। তাই সেদিকেই সকলের নজর। আর তার ফলে পুজোর মূলে যাঁরা তাঁদের দিকটিই অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications