উত্তরবঙ্গের বন্যায় ত্রাণের আড়ালে রাজনৈতিক মনোবৃত্তি, অভিযোগ মমতার
উত্তরবঙ্গে সম্প্রতি বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন, কিছু মানুষ বন্যা ত্রাণকে অজুহাত করে রাজনীতি করছেন। তিনি বলেন, "ধুপগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে যারা ত্রাণের নাম করে রাজনীতি করছে, তারা স্থানীয়দের মনোবল ভাঙছে।"
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে নিশানা করে মন্তব্য করেন, তাদের বন্যা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন শুধুমাত্র ফটোশুট ও রাজনৈতিক অভিসন্ধি তৈরির উদ্দেশ্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আপনি একদিনের জন্য ফটোশুট করেন, তারপর অদৃশ্য হয়ে যান। আমরা বাড়ি, সেতু পুনর্নির্মাণ, সড়ক পরিষ্কারের পাশাপাশি কমিউনিটি কিচেন চালাচ্ছি।"

এর পেছনে একটি ঘটনা হল, ৬ অক্টোবর নাগরকাটায় বিজেপি এমপি খাগেন মূর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার ঘটনা। হামলায় স্থানীয়দের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনা হয়েছে।
বন্যার পর মুখ্যমন্ত্রী দু বার উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার মিরিকের ভূমিধস আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাশাপাশি সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণও করেন। সেখানেই তিনি ৪ জন মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে চেক ও ১০ জনের জন্য বিশেষ হোম গার্ড পদে নিয়োগপত্র বিতরণ করেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সকল বাড়িতে ১.২ লক্ষ টাকা করে সাহায্য দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে, তারা ডব্লিউ বি এস ডি এম এ ফান্ডে অবদান রাখুন যাতে দ্রুত উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ সমর্থিত হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে তিনি ১ লক্ষ টাকা দান করেছেন এছাড়াও সকলকে একইভাবে সাহায্যের জন্য আশ্বাস দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী এই বন্যাকে মনুষ্য সৃষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করে দাবি করেছেন, ভুটান ও সিকিমের নদীর অতিরিক্ত জলের কারণে উত্তরবঙ্গ প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ রাজ্যকে ভুটানের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।












Click it and Unblock the Notifications