রামনবমীর মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা, নন্দীগ্রামে অভিষেককে কটাক্ষ শুভেন্দুর ‘৪ মে এর পর শ্রী রামই ভরসা'
নন্দীগ্রামের মাটি আবারও রাজনীতির উত্তাপে সরগরম। রামনবমী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা ও পদযাত্রাকে ঘিরে শুক্রবার সেখানে জমে উঠল রাজনৈতিক লড়াইয়ের আবহ। বিজেপির প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই দিনকে বেছে নিয়ে একদিকে যেমন শক্তি প্রদর্শন করলেন, তেমনই প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।
টেঙ্গুয়া থেকে জানকিনাথ মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু। 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মিছিলে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শোভাযাত্রা শেষে জনসংযোগে নেমে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে রামনবমীর প্রসাদ বিতরণ করেন, যা রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি জনসংযোগের কৌশল হিসেবেও ধরা পড়ে।

এই কর্মসূচির মাঝেই বড় ধাক্কা খায় তৃণমূল শিবির। বিজেপির দাবি, প্রায় ১১ জন স্থানীয় নেতা এদিন ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন। ভোটের ঠিক আগে এই দলবদলকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই দিনে কোলাঘাটে সভা করার কথা রয়েছে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ফলে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সম্প্রতি অভিষেকের 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "এখন থেকেই প্র্যাকটিস করছেন। ৪ মে এর পর তো শ্রীরামের স্মরণেই থাকতে হবে!" পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গে নন্দীগ্রামের মূল লড়াই বিজেপির নয়, বরং আইএসএফ এর এই মন্তব্য করে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেন তিনি।
শোভাযাত্রার পথে এক ভিন্ন ছবি দেখা যায়। সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ যুবক শুভেন্দুকে ফুল, মিষ্টি ও ফল দিয়ে সংবর্ধনা জানান। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, "এনারা রাষ্ট্রবাদী মুসলিম। প্রকৃত হিন্দু যেমন নিজের ধর্ম মানে, তেমনই অন্য ধর্মকে সম্মান করে। মুসলিম ভাইয়েরাও একইভাবে চলেন।" তিনি দাবি করেন, এলাকার বহু শিক্ষিত মুসলিম যুবক কর্মসংস্থানের আশায় বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে শুভেন্দু জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিষয়টি নিয়ে অবগত ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।
নন্দীগ্রামে এবার সরাসরি লড়াই জমে উঠেছে শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের মধ্যে। একসময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন পবিত্র, পরে দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। ফলে এই কেন্দ্রের লড়াই শুধুই রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত সমীকরণেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications