উত্তরবঙ্গে দুর্যোগে রাজনীতি তুঙ্গে! মিরিকে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, যাচ্ছেন শুভেন্দুও
প্রবল বৃষ্টি এবং ভূমিধসের ধাক্কায় দার্জিলিংয়ের পার্বত্য অঞ্চল যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। দুর্যোগের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আজ, মঙ্গলবার, ক্ষতিগ্রস্ত মিরিকে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুধু রাজ্যের শাসকদল নয়, একই দিনে উত্তরবঙ্গের দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বও। ফলে ত্রাণকার্য এবং সাহায্যের পাশাপাশি এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গে তুঙ্গে পৌঁছেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
শনিবার রাতভর বৃষ্টিতে পাহাড়ের একাধিক জায়গায় ধস নামে এবং ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি তৈরির পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে সক্রিয় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। জানা গিয়েছে, তিনি রবিবার সকালেই ভার্চুয়াল বৈঠক করে জেলার আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার দুপুরে তিনি পৌঁছে যান শিলিগুড়িতে। দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের জন্য ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের এক সদস্যকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। বিপর্যস্ত মিরিকের বাস্তব পরিস্থিতি দেখতেই মঙ্গলবার তাঁর সেখানে যাওয়ার কথা।
পাল্টা সফরে বিজেপি নেতৃত্ব
রাজ্য সরকারের পাশাপাশি বিজেপিও ময়দানে নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দিনেই মিরিকে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। এছাড়াও, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিশেষত, সোমবার নাগরাকাটায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আক্রান্ত হওয়ার পর এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর টুইট, পাল্টা জবাব মুখ্যমন্ত্রীর
খগেন মুর্মু এবং শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হামলার তীব্র নিন্দা করে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতিকে দায়ী করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করে পাল্টা পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন যে, কোনও প্রমাণ, আইনি তদন্ত বা প্রশাসনিক রিপোর্ট ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী মোদী তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করেছেন। মমতার মতে, এটি নিম্নমানের রাজনীতির উদাহরণ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন তার নিজের পথেই চলবে এবং আইনি প্রক্রিয়াই দোষী চিহ্নিত করতে পারে, কোনও রাজনৈতিক টুইট নয়।












Click it and Unblock the Notifications