ইয়াস বিধ্বস্ত তিন রাজ্যের জন্য ১০০০ কোটি টাকার প্যাকেজ, বাংলা-ঝাড়খণ্ডের জন্য বরাদ্দ ৫০০ কোটি
কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অতি অল্প সময়ের জন্য সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইয়াশে যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সুন্দরবন এবং দিঘাকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে মোট ২০ হাজার
ইয়াস বাংলায় আছড়ে পড়েনি। কিন্তু, তার ঝাপটাতেই বেসামাল অবস্থা। বিপর্যস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকা। ভাঙছে একের পর এক নদীবাঁধ। আর তার জেরেই জল ঢুকছে হু হু করে। ভাসিয়ে দিচ্ছে পরপর গ্রাম। আশ্রয়হীন হাজার হাজার মানুষ। কার্যত একই ছবি মেদিনীপুরেও।
উপকূলে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে ইয়াস। পাহাড় প্রমাণ ঢেউ আছড়ে পড়েছে একের পর। ভেসে গিয়েছে দিঘা, মন্দারমণি সহ শঙ্করপুরের বিস্তীর্ন অঞ্চল। উড়ে গিয়েছে বোল্ডার। ভেঙে গিয়েছে রাস্তা। কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে দিঘা।

যা মনে হয় তাই করবেন
এদিন প্রধানমন্ত্রীকে ইয়াশ পরবর্তী রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ানের হিসাব সম্বলিত রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন তিনি। তারপরই চপারে করে দিঘার পথে রওনা হন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। প্রশাসনিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও বলেন তিনি। "যা মনে হয় তাই করবেন", একথাই প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীকে ছাড়াই শুরু হয় রিভিউ বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ওই বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী এবং খড়গপুরের বিধায়ক হিরণ।

২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের দাবি
মোদীর সঙ্গে অতি অল্প সময়ের সাক্ষাতের বিপদ মোকাবিলায় আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। দিঘা সৈকত উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার কোটি এবং সবমিলিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়েছেন। তবে সেই টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে সংশয় প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষমতায় আসার পরেই দিঘা সাজিয়ে তোলার কথা বলেন। সেই মতো সেজেও ওঠে। কিতু সাইক্লোনের ধাক্কায় তা ধংস্তুপে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রের কাছে আবেদন মমতার।

পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডকে মিলিয়ে ৫০০ কোটি
আকাশপথে শুক্রবার ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি দেখার পর ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির জন্য ১ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর মধ্যে ওড়িশা ৫০০ কোটি এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডকে মিলিয়ে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ইয়াস-এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি মোদী সমবেদনা জানিয়ে আপৎকালীন ত্রাণকার্যের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওড়িশার ভদ্রক ও বালেশ্বর জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকাগুলি আকাশপথে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য। ইয়াস-এ ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করেছেন তাঁরা।

বাংলার মানুষের পাশে কেন্দ্র
ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা অর্থ সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী টুইটে লিখেছেন, বাংলার মানুষের জন্যে সবসময় কেন্দ্র পাশে আছে। জানা যাচ্ছে, টাকা দেওয়া হলেও কেন্দ্রের তরফে একটা টিম এসে ক্ষয়ক্ষতি বিচার করবে। আর তা দেখে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। এরপরে প্রয়োজন হলে আরও টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications