নিপা বনাম কোভিড: কোনটি বেশি ভয়ংকর? কী কী পার্থক্য দুই ভাইরাসের মধ্যে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? জানুন এখানে
বাংলায় ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজ্যের দু'জন নার্স নিপায় আক্রান্ত হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে যে, দু'জনেই ভেন্টিলেশনে রয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। এই ভাইরাস নতুন নয়। এর আগেও ২০০১ সালে শিলিগুড়ি এবং ২০০৭ সালে নদিয়ায় নিপা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় অনেক মানুষ আক্রান্ত হুয়েছিলেন, মৃত্যুও হয়েছিল একাধিক।

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে, নিপা কী কোভিডের থেকেও বেশি বিপজ্জনক?
চিকিৎসকদের মতে, কোভিড খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায়। মানুষ থেকে মানুষের হাঁচি অথবা কাশির মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে আবার নিপা ভাইরাসের ছড়ানোর গতি অনেক ধীর। সাধারণত ছোট এলাকা অথবা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যেই সংক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকে।
তবে, যেখানে কোভিডে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম ছিল (গড়ে ০.৫-২ শতাংশ), সেখানে নিপায় মৃত্যুর হার অনেক বেশি। প্রায় ৪০-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ নিপা ভাইরাস অল্প মানুষকে আক্রান্ত করলেও, একবার সংক্রমিত হলে ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।
কীভাবে ছড়ায় নিপা?
মূলত বাদুড় নিপা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। বাদুড়ের লালা, প্রস্রাব অথবা মলে দূষিত ফল বা ফলের রস থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। কাঁচা খেজুরের রসও নিপা ছড়ানোর বড় উৎস। সংক্রমিত পশু (বিশেষ করে শুয়োর) থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে এসেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।
কোভিডের ক্ষেত্রে যদিও প্রথমে বাদুড়ের কথাই উঠেছিল, বাস্তবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে মূলত মানুষ থেকে মানুষে।
উপসর্গে বড় পার্থক্য কী?
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হঠাৎ করে জ্বর, মাথা ও শরীর ব্যথা, গা-হাত পায়ে যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব অথবা বমি, গলা ব্যথা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট, মাথা ঠিকভাবে কাজ না করা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এমনকি এনসেফেলাইটিসও হতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এর উপসর্গ প্রকাশ পায়। আর কোভিডে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জ্বর, গা-ব্যথা অথবা সর্দি-কাশির মধ্যেই উপসর্গ সীমাবদ্ধ ছিল।
কোভিডের মতো নিপার কোনও টিকা অথবা নির্দিষ্ট ওষুধ এখনও নেই। তাই প্রতিরোধই হলো সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ যে,
- কাঁচা খেজুরের রস একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
- ফল ভাল করে ধুয়ে খান।
- শুয়োর পালন বা সংক্রমিত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
- ভিড় বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় N-95 মাস্ক ব্যবহার করুন।
- বাইরের খাবার যতটা সম্ভব কম খান।
- জ্বর বা সন্দেহজনক উপসর্গ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাস এলাকাভিত্তিক হওয়ার কারণে দ্রুত শনাক্ত করা গেলেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তবে সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications