কমিশনের বেঞ্চ আসার আগে রাজ্য উত্তাল, ধর্মতলায় ধর্নায় বসছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা
রবিবার রাজ্যে পৌঁছাবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এর আগে রাজ্যের রাজনীতির পটভূমি একেবারে উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিজেপি ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল কমিশনকে নিশানা করে পথে নেমেছে বা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বামফ্রন্টের কর্মীরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার মনোজ আগরওয়ালের দপ্তরের বাইরে অবস্থান করেছেন। একই সময়ে তাদের ঠিক পাশেই জমায়েত করেছিল নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ। ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন নাম নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি নেতা হুমায়ুন কবীর।

আজ থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চের কাজ বুধবার থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার অনেকটাই এগিয়েছে। ডোরিনা ক্রসিং থেকে এসপ্ল্যানেড মেট্রো ২ নম্বর গেট পর্যন্ত দীর্ঘ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। আজ দুপুর ২টায় মমতার ধর্না শুরু হওয়ার কথা। ধর্না কত দিন চলবে তা তৃণমূলের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট করা হয়নি, তবে মঞ্চের কাঠামো দেখে অনুমান করা হচ্ছে এক দু'দিনের মধ্যে শেষ হবে না।
এদিকে, আগামী ১৪ মার্চ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা। কলকাতায় বৃহস্পতিবার বিজেপি পথসভা করেছে, রানি রাসমণি রোডে একগুচ্ছ ট্যাবলোর উদ্বোধন করা হয়েছে ব্রিগেডের প্রচারের জন্য। তবে বিজেপি কোনোভাবে কমিশনের লক্ষ্যবস্তু হয়নি।
বাকি সমস্ত পক্ষ কমিশনের দিকে চিঠি, বৈঠক ও ধর্নার মাধ্যমে সরাসরি প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানিয়েছেন, কমিশনের ফুল বেঞ্চে সর্বদল বৈঠকে তারা ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের বিষয়টি উত্থাপন করবেন। একই দাবিতে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে কংগ্রেস।
রাজ্যপালের পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগের ঘটনাও এই রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সিভি আনন্দ বোস দিল্লিতে গিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তার স্থলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আরএন রবিকে। মমতা এই সিদ্ধান্তে 'স্তম্ভিত' হয়েছেন, যদিও নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি। তিনি জানিয়েছেন, যদি কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ বোসের পদত্যাগের পেছনে থাকে, তবে অবাক হবেন না।
মমতার ধর্না নতুন ঘটনা নয়। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তিনি ধর্মতলায় ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে কয়েক দিন ধর্না করেছিলেন। সেই রাজীব বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সাত বছর পর ফের মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।












Click it and Unblock the Notifications