Murshidabad: ধুলিয়ানে ফের দোকানে আগুন, তছনছ হোটেলও! মুর্শিদাবাদে 'শ্মশানের শান্তি'? আংশিকভাবে চালু ইন্টারনেট
Murshidabad: অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল ৬ দিন আগে। মুর্শিদাবাদে যেন শ্মশানের শান্তি বিরাজ করছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা সত্ত্বেও ফের আগুন লাগল ধুলিয়ানে। বুধবার নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে একটি প্রসাধনী দ্রব্যের দোকানে। ত্রাস পিছু ছাড়ছে না এলাকাবাসীর। এখনও জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা।
বুধবার সকাল পৌনে ছটা নাগাদ আগুন লাগার ঘটনা ঘটল ধুলিয়ানে। ধুলিয়ান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কসমেটিকসের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল পরিচালিত ধুলিয়ান পৌরসভার উপ পুরপ্রধানের দাদা প্রবীর সাহার দোকানে আগুন লাগানো হয় বলে দাবি। দোকান থেকে ৩ কিমি দূরেই ব্যবসায়ীর বাড়ি। খবর পেয়ে এসে দেখেন সব পুড়ে গিয়েছে। বাইরে থেকে শার্টরা খুলে ভেতরেও আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, বোমাবাজিতে ২ জন জখমও হয়েছেন।

পরিকল্পনামাফিকই ওই কসমেটিকসের দোকানে আগুন লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ। অপরদিকে ধুলিয়ানের ঘোষপাড়ায় হোটেলে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তছনছ হয়ে গিয়েছে রুজিরুটি। সিঁড়িতে বসে হাঁপুস কান্না হোটেল মালিকের। তাঁর অভিযোগ, ৪ ঘণ্টা ধরে ফোনের পর ফোন গিয়েছে, কিন্তু পুলিশ আসেনি। কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে বলেই এখনও সেখানে তাঁরা রয়েছেন, নাহলে প্রাণভয়ে অন্যত্র চলে যেতেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বুধবার মুর্শিদাবাদের উপদ্রুত এলাকাগুলির মধ্যে সামশেরগঞ্জ বাদে বাকি অংশে ধীরে ধীরে ইন্টারনেট পরিষেবা ফেরানো হয়েছে বলে খবর। অশান্তি নিয়ে উসকানিমূলক বার্তা যাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় না ছড়িয়ে পড়ে, তার জন্য জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার বিস্তীর্ণ অংশে বন্ধ ছিল ইন্টারনেট। সামশেরগঞ্জের বেশকিছু এলাকায় এখনও অশান্তির আশঙ্কা করছে প্রশাসন। তাই সেখানে এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট।
মুর্শিদাবাদে পুলিশের পাশাপাশি মোট ১৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। দফায় দফায় টহলদারি জারি রয়েছে বাহিনীর। সঙ্গে রয়েছে পুলিশও। গত শুক্রবার অশান্তির সূত্রপাত হতেই শনিবার এলাকায় গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও বিএসএফের শীর্ষকর্তারা। পুলিশ ও বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকের পর কলকাতায় ফিরে এসেছেন তারা। সূত্রের খবর, ধীরে ধীরে সুতি, জঙ্গিপুরে দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে, বসেছে বাজার। তবে বুধবার সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ১৬৩ ধারা জারি থাকবে।
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে গত শুক্রবার ১১ এপ্রিল ছড়িয়েছিল অশান্তি। ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না সুতি, সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান ও জঙ্গিপুরের বাসিন্দাদের। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ভয়ে রয়েছেন তারা। বিএসএফ চলে গেলে আবারও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আর তাই পাকাপাকিভাবে বিএসএফ ক্যাম্পের দাবি তুলেছেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications