Murshidabad: "BSF চলে গেলে তোদের কে বাঁচাবে?" পরের শুক্রবার নিয়ে ভয়ে সিঁটিয়ে হিন্দুরা! মুর্শিদাবাদে 'বিভীষিকা'
Murshidabad: নববর্ষের ৪ দিন আগেই সব তছনছ হয়ে গিয়েছে। ওয়াকফ ইস্যুতে প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব, হিংসা, ভাঙচুর, রক্তারক্তির সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদ। নবাবের জেলায় ঘিরে বসেছে নৈরাজ্য। নববর্ষে নতুন সূর্যোদয় কি দেখতে পেলেন মুর্শিদাবাদবাসী? নাকি এখনও বিরাজমান নিকষ কালো আঁধার? গ্রাউন্ড জিরোয় পরিস্থিতি সরেজমিনে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা। নিচে রইল বিস্তারিত প্রতিবেদন।
মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের উপদ্রুত নানা গ্রামে মানুষের দুর্দশা উঠে এল আমাদের ক্যামেরায়। খুশি নয়, নতুন বছরের প্রথম দিনে মনে ঘিরে ধরেছে একরাশ ভয়। ওয়াকফ বিক্ষোভের মাঝেই গত ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে খুন হয়েছিলেন বাবা ছেলে। হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে নৃশংসভাবে খুন করে দুষ্কৃতীরা। পরিবার তো বটেই, সেই বিভীষিকা ভুলতে পারছেন না স্থানীয় গ্রামবাসীরাও। ঘরে ঢুকে আচমকাই কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল বাবা-ছেলেকে।

পুড়ে গিয়েছে ঘরবাড়ি। হিংসার আগুন শেষ করে দিয়েছে রুজিরুটিও। দোকানপাট পুড়ে গিয়ে সর্বস্বান্ত হিন্দুরা। ভিটে হারিয়ে ভয়ে কেউ গিয়েছেন ঝাড়খণ্ড, বীরভূমে, অধিকাংশই গিয়েছেন মালদহে। এখানেই শেষ নয়, প্রাণভয়ে পালানোর সময়ও উগ্রপন্থীরা ট্রাকের পিছনে ধাওয়া করেছে বলেও কানাঘুষো চলছে। কেউ বলতে চাইছেন, কেউ আবার আতঙ্কে মুখ খুলতেই চাইছেন না। পাছে তাঁকেও গ্রামছাড়া হতে হয়।
গত শুক্রবার ১১ এপ্রিল জুম্মা নমাজের দিনই অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল মুর্শিদাবাদে। আরও একটা শুক্রবার আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগামী শুক্রবার আরও বড় কিছু হতে পারে। এমনই হুমকি ধমকি তাঁরা পেয়েছেন বলে দাবি। আশঙ্কা দিনরাত তাড়া করছে গ্রামবাসীদের। শুক্রবার কি আরও বড় আঘাত হানবে ওরা? হুমকিতে জবুথবু হিন্দু গ্রামবাসীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্ন।
কিন্তু পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে কীসের ভয়? প্রশ্নের উত্তরে ওপাশ থেকে ধেয়ে এল আরও ভয়ঙ্কর সব কথা। গ্রামবাসীদের দাবি, পুলিশে আস্থা আগেই চলে গিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে গেলে আরও বড় হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাহিনী চলে গেলে কে বাঁচাবে?- এমনই হুমকি শুনেছেন তারা। আর তাই একজোট হয়ে বসে তাঁরা দাবি জানাচ্ছেন, গ্রামে গ্রামে স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প চাই। নাহলে অবস্থা আরও সঙ্গিন হবে হিন্দুদের।
কোথাও নারীর ইজ্জতের বিনিময়ে স্বামী-সন্তানের প্রাণ টিকিয়ে রাখা হয়েছে, কোথাও আবার প্রকাশ্যেই দেওয়া হয়েছে ধর্ষণ-খুনের হুমকি। সারি সারি দোকানের মাঝে বেছে বেছে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হিন্দু মালিকদের দোকান। ঘরের মজুত চাল থেকে শুরু করে নগদ টাকা, সব লুটে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। প্রতিবাদের অছিলায় হামলার সেই বিভীষিকা ভুলতে পারছেন না গ্রামবাসীরা। যারা পালিয়ে বেঁচেছেন, তারাই বা ফিরবেন কীকরে? হিন্দুস্তানেই এভাবে রাতারাতি ভিটে ছেড়ে হিন্দুদের অন্য জেলায় চলে যেতে হবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ওরা।












Click it and Unblock the Notifications