Murshidabad: জ্বলছে মুর্শিদাবাদ, ভিটেছাড়া হিন্দুরা; ওয়াকফ-প্রতিবাদ নিয়ে তবু কেন মুখে কুলুপ মমতার?
Murshidabad: ওয়াকফ সম্পত্তির বেদখল রুখতে আনা হয়েছিল ওয়াকফ আইন। অথচ বিল থেকে ওয়াকফ আইনে পরিণত হতেই দেশের কোণা কোণা থেকে উগ্রপন্থা ও ধর্মীয় আস্ফালনের পর্দাফাঁস হতে দেখা গেল। ভারতের নানান ছোট বড় শহরে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তবে সেসবকে ছাপিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ। এরাজ্যের মুর্শিদাবাদের ছবি দেখে শিউড়ে উঠছে গোটা দেশ।
ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের নামে মুর্শিদাবাদে একের পর এক হিন্দু পরিবারদের টার্গেট করা হয়েছে। শুক্রবারের নমাজ প্রার্থনার পরে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষুব্ধ লোকজন দাঙ্গা শুরু করে। হিন্দুদের দোকানপাট লুঠ করা থেকে ভিটে ছাড়তেও বাধ্য করা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অলিতে গলিতে পাথর বৃষ্টি, গণহত্যা থেকে শুরু করে হিন্দুদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মারাও গিয়েছেন ৩ জন। কমপক্ষে ১৫০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও অশান্তি উত্তেজনায় এতটুকু ভাটা পড়েনি।

মুর্শিদাবাদের বিভীষিকা
প্রতিবাদের নামে হিংসা ছড়ানোর ভয়ঙ্কর সব ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। তেমনই একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, "হিন্দুরা কুকুর। আমরা ক্ষমতায় এলে ওদের বুঝে নেব।" বিজেপির দাবি, এর থেকেই স্পষ্ট উগ্রপন্থা কীভাবে চোখের আড়ালে মাথাচাড়া দিয়েছে। কড়া অ্যাকশনের দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতারা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদলের নীরবতা নিয়ে। রাজ্যে হিন্দুদের ঘর ছাড়া হতে হচ্ছে, অথচ তৃণমূল এনিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে বলে দাবি বিজেপির। মুর্শিদাবাদে যখন এই পরিস্থিতি, তখন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে মুম্বই, হায়দ্রাবাদ, কলকাতা, পাটনা, শিলচর, লখনউ ও তামিলনাড়ুর হোসুরেও। অসমের শিলচরেও পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়ায় বিক্ষোভকারীরা। দিল্লির জামা মসজিদে অবশ্য মোটের উপর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই হয়েছে।
Over a thousand families have fled their homes in Murshidabad and taken shelter in nearby districts. Last week, I covered the Mothabari riot, and now this.
— Dr. Archana Majumdar (@DrArchanaWB) April 13, 2025
This video is proof of what women and children are enduring in West Bengal due to the Waqf Bill protests—fueled by… pic.twitter.com/JdfJOUa9Sn
বিজেপির অবস্থান
আর যাই হয়ে যাক, ওয়াকফ বোর্ড সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়, একথা স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছে বিজেপি। দীর্ঘ বছর ধরে ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার হয়ে এসেছে। দরিদ্র মুসলিমদের এতদিন আঁধারেই রাখা হয়েছে। ওয়াকফ বোর্ডে জমি মাফিয়া ও পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতেই এবং বোর্ডের পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতেই সংশোধনী আইন আনা হয়েছে।
Videos which shows the situation in Kolkata today:#WaqfBill protestors blocked roads and swirled "Palestinian flag" on hijacked buses: pic.twitter.com/cFZ5hUDWGq
— @jxh45 (@jxh45) April 10, 2025
ভোটের জন্য হিংসার আগুনে ঘি বিরোধীদের?
যদিও ওয়াকফ আইন নিয়ে চরম বিরোধিতা করে এসেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, মিমের মতো ইন্ডি জোটের একাধিক শরিক দল। কিন্তু প্রকাশ্যে ঘৃণা ভাষণ ও উসকানি, সংঘর্ষ দেখেও তাদের নীরবতা অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কথা না ভেবে ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে তারা তোষণের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ বিজেপির।
VIDEO | Kolkata: Aliah University students hold protest over Waqf (Amendment) Act.
— Press Trust of India (@PTI_News) April 11, 2025
(Full video available on PTI Videos - https://t.co/n147TvqRQz) pic.twitter.com/c1FI7VeQwd
মমতাকে 'একালের জিন্না' কটাক্ষ
সংখ্যালঘু তোষণে ব্যস্ত মমতা হিন্দুদের নিরাপত্তার সঙ্গে আপোষ করেছেন বলে কটাক্ষ বিজেপি নেতা তরুণ চুঘের। মমতাকে আধুনিক যুগের জিন্না বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। মুর্শিদাবাদের হিংসায় ৩ জনের মৃত্যু নিয়ে কেন চুপ মমতা ব্যানার্জি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিজেপি নেতা। মুর্শিদাবাদের হিংসায় রাজ্য সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা। মন্দির ভাঙচুর থেকে শুরু করে হিন্দুদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে তৃণমূল, দাবি বিজেপি মুখপাত্রের।
হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক যে এত কথা বলা হল, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন চুপ? প্রশ্ন তুলেছে বঙ্গ বিজেপিও। মমতার নীরবতাই কি সমর্থনের ইঙ্গিত? প্রশ্ন গেরুয়া শিবিরের। যদিও বিরোধীদের প্রবল উসকানি সত্ত্বেও ওয়াকফ আইন নিয়ে অবস্থানে অনড় মোদী সরকার। ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের প্রশ্নই নেই। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা ও ধর্মের নামে দুর্নীতি হঠানোই লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গের মতো অবিজেপি রাজ্যে যেখানে শাসকদল হিংসা রুখতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে আমজনতাকে সুরক্ষা দেওয়াই লক্ষ্য।
বিরোধীরা যখন বেমালুম অনর্থক হিংসা ছড়িয়ে চলেছে, তখন ২০ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত ওয়াকফ সংস্কার নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিজেপি। ওয়াকফ আইনের সুফল নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের সচেতন করা হবে। নতুন আইনে কীভাবে তারা লাভবান হবেন, তা বোঝানো হবে মুসলিমদের। তবে দিল্লি হোক বা মুর্শিদাবাদ, ওয়াকফ নিয়ে বিজেপির অবস্থান যে অভিন্ন থাকবে, সেই বার্তা একেবারে জলের মতো পরিষ্কার।












Click it and Unblock the Notifications