না ফেরার দেশে মুকুল রায়, রাজ্য রাজনীতিতে শেষ হল এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল
রাজ্য রাজনীতিতে নেমে এল শোকের ছায়া। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্ষীয়ান নেতা মুকুল রায় আর নেই। সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে, প্রায় দেড়টা নাগাদ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ৭১ বছর হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিলে তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, গত কয়েক মাস ধরেই তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তারপর সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালেই ভর্তি করা হয় মুকুল রায়কে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। সোমবার গভীর রাতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। পরিবারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, রাত দেড়টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন যে, তিনি হাসপাতালে থেকে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটে যায়। তিনি জানান যে, চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সময় পর্যন্ত অন্বক জনকেই আনুষ্ঠানিকভাবে খবর দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন শুভ্রাংশু।
অসুস্থ থাকার কারণে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন মুকুল রায়। সম্প্রতি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা দিতে গিয়ে তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়ই প্রথম প্রকাশ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন। এই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। তাঁর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করার পর কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট, এবং তাঁর বিধায়ক পদ বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগঠন গড়া থেকে শুরু করে কৌশল নির্ধারণ পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের নেপথ্যে তাঁর নামই বারবার উঠে এসেছে। তাঁর এরকম মৃত্যুর কারণে শুধুমাত্র একটি দলের নয়, সমগ্র রাজনৈতিক মহলেই গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বহু লড়াইয়ের সাক্ষী এই নেতার বিদায়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়ে গেল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।












Click it and Unblock the Notifications