বাংলায় আরও ভোট কমলো সিপিএম, কংগ্রেস জোটের, ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন?
ঢাক ঢোল পিটিয়ে বাংলায় মৌখিক জোট করেছিল বাম এবং কংগ্রেস। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম ও কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী হাত মিলিয়ে ছিলেন। মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি দুটি আসনে নির্বাচনে তাঁরা লড়াই করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভরাডুবি। দুই তারকা প্রার্থী হেরেছেন তৃণমূলের কাছে। এবারের নির্বাচনে আরও ভোট কমলো সিপিএম, কংগ্রেসের।
তৃণমূল কংগ্রেস এবারও তাদের নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক অটুট রেখেছে। অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে ব্যাকফুটে পাঠিয়েছেন। বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস ৩০ টি লোকসভা আসনে জয় লাভ করেছে। বিজেপির রথ আটকে গিয়েছে ১২ টি আসনে।

তবে বাম কংগ্রেস জোট রীতিমতো ধরাশায়ী। কারণ, এবারও বামেদের আসন সংখ্যা শূন্য। বহরমপুরের রবিন হুড অধীর চৌধুরী ভোটে হেরেছেন। মহম্মদ সেলিম বিপুল ভোটে পরাজিত। কংগ্রেস থেকে কেবল বাতি জ্বালিয়ে রেখেছেন উত্তর মালদার ঈশা খান চৌধুরী।
ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে ২০২১ সালের থেকেও খারাপ ফল৷ এবারে সিপিএম কংগ্রেস আরও ভোটব্যাঙ্ক হারিয়েছে। শতাংশের নিরিখে পিছিয়ে পড়েছেন সেলিম, অধীররা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেরা পেয়েছিল ৭.৫ শতাংশ ভোট। অন্য দিকে কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল ৫.৭ শতাংশ ভোট। গত বার রাজ্যে সেই অর্থে জোট হয়নি। তবুও তাদের মোট শতাংশ যোগ করলে দাঁড়ায় ১৩ শতাংশের বেশি ভোট।
এবারের নির্বাচনে পাহাড় থেকে সমতল সিপিএম কংগ্রেস হাত মিলিয়েছিল। ভালো ফলের আশা করেছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ও ইন্দিরা ভবন। বেলা বাড়তেই আকাশ ভেঙে পড়ল দুই দলের রাজ্য নেতৃত্বদের মাথায়। কারণ, বাংলার মানুষ আরও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের থেকে।
এবার রাজ্যে সিপিএমের প্রাপ্য ভোটের শতাংশ ৫.৬৪। অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ৪.৭০ শতাংশ। অর্থাৎ সিপিএম, কংগ্রেস জোট মোট ১০ শতাংশের সামান্য বেশি ভোট পেয়েছে। তৃণমূল এবার ভোট পেয়েছে ৪৫.৭৬ শতাংশ। বিজেপির প্রাপ্য ভোটের মোট ৩৮.৭৪ শতাংশ।
আগামী দিনে জোটের ভবিষ্যৎ কী? সেই নিয়ে কি আবার প্রশ্ন উঠল? বাংলায় সিপিএম কংগ্রেস জোট কতটা ফলপ্রসু? প্রশ্ন তুলছেন রাজনীতির একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications