মহারাষ্ট্রে নিখোঁজ বালুরঘাটের বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক, পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার
বাংলায় কথা বললেই ভিনরাজ্যে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের। ফের সামনে এলো এমন ঘটনা। এবার মুম্বইয়ের দাদর স্টেশন থেকে এক পরিযায়ী শ্রমিকের খোঁজ মিলছে না। বালুরঘাট থানার পুলিশের দ্বারস্থ হলো নিখোঁজের পরিবার।

অভিযোগ, বাংলা থেকে যাওয়ার কথা বলতেই মুম্বইয়ের দাদর স্টেশনে পুলিশ আটক করার চেষ্টা করে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে। একজন কোনওরকমে পালাতে পারলেও অপরজনের খোঁজ মিলছে না। যিনি পালিয়েছিলেন তিনিও খোঁজ দিতে পারছেন না নিখোঁজ সঙ্গীর। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধুকে বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যাওয়া শ্রমিক সহ আরও এক তরুণের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল নিখোঁজ শ্রমিকের পরিবার। নিখোঁজ বিশ্বজিৎ মালি কোথায় রয়েছেন, তা জানতে মুম্বই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বালুরঘাট থানা।
বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট দেওরা গ্রামের ২২ বছর বয়সী বিশ্বজিৎ মালি ভিনরাজ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁকে কাজ জোগাড় করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন ওই গ্রামেরই নিখিল সরকার ও বাপ্পা বর্মন। নিখিল এলাকার ছেলেদের মুম্বইয়ে পাঠান এবং বাপ্পা সেখানে কাজ জোগাড় করে দেন বলে জানা গিয়েছে। গত ১৯ অগাস্ট নিখিলের সঙ্গে মুম্বই রওনা হন বিশ্বজিৎ। পরিবারের দাবি, ২২ অগাস্ট ট্রেনে থাকাকালীন বিশ্বজিতের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু তারপর থেকে বিশ্বজিতের ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিখিলকে ফোন করে পুলিশের আটকের বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন। নিখিল তাঁদের জানান, দাদর স্টেশনে নেমে লোকাল ট্রেন ধরে মুম্বইয়ে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দাদর স্টেশনে নামতেই প্ল্যাটফর্মে থাকা পুলিশ দুজনকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে তাঁদের আটকে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি হয়। যা কানে যেতেই সঙ্গী বিশ্বজিৎকে ফেলে পালিয়ে যান নিখিল। এরপর থেকে বিশ্বজিতের কোনও খোঁজ নেই বা যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পরের দিন স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে বিশ্বজিতের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে নিখিল দাবি করেছেন।
কিন্তু নিখিলের কথা বিশ্বাস করছে না বিশ্বজিতের পরিবার। তাই নিখিল ও মুম্বইয়ে থাকা বাপ্পার বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় ছেলে নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্বজিতের বাবা মদন মালি। বিশ্বজিতের দিদি মৌসুমীর কথায়, "দাদর স্টেশনে ভাইকে আটকানো হয়েছিল বলে নিখিল জানিয়েছে। কিন্তু নানাভাবে চেষ্টা করেও ভাইয়ের আর খোঁজ মিলছে না। নিখিলের কথা আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। আমাদের সন্দেহ ওরাই আমার ভাইয়ের কোনও ক্ষতি করেছে। তাই ঘটনার তদন্ত করে ভাইকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করুক পুলিশ।"












Click it and Unblock the Notifications