পরিবেশ বাঁচাতে সাইকেল নিয়ে দেশ ভ্রমণ বাংলার ছেলের, পরবর্তী গন্তব্য সিকিম
পরিবেশ বাঁচাতে সাইকেল নিয়ে দেশ ভ্রমণ বাংলার ছেলের, পরবর্তী গন্তব্য সিকিম
ছোট্ট দোকানের মালিক অরুপ বিশ্বাস। ৩৫ বছরের এই যুবক সাধারণ মানুষকে জল সংরক্ষণ ও গাছ লাগানোর সচেতনা বৃদ্ধির চেষ্টায় নিজের সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পরলেন ভারত ভ্রমণের উদ্দেশে। লক্ষ্য একটাই তিনি ভারতের বিভিন্ন শহরে, গ্রামে, গঞ্জে ঘুরে মানুষকে গাছ লাগানোর জন্য সচেতন করবেন। এটা করতে গিয়েই তিনি নিজের সমস্ত পুঁজি ইতিমধ্যে ব্যয় করে ফেলেছেন।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বীজপুরের বাসিন্দা এই অরূপ বিশ্বাস। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি নিজের বাইসাইকেল নিয়ে ভারত ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। একাধিক রাজ্য ঘোরার পর তিনি বর্তমানে উত্তরবঙ্গের আলিপুর দুয়ারে রয়েছেন। তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য হল আমাদের বেঁচে থাকার জন্য গাছ এবং জল সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
ইতিমধ্যে তিনি ঝাড়খণ্ড, বিহার, আসাম , মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল প্রদেশের একাধিক গ্রাম ও শহর সাইকেলে করে ঘুরেছেন। সাধারণ মানুষকে জল ও গাছ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি উত্তরবঙ্গের আলিপুর দুয়ারে রয়েছেন। এরপর তিনি সিকিম যেতে চান। এছাড়াও তাঁর উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অরূপ বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ১৮ মাসে সারা ভারত ঘুরে তিনি সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপন ও জল সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন করবেন। তবে যাত্রা শুরু করার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, এই সময়ের মধ্যে সম্ভব নয়। অরূপ বিশ্বাস বলেন, তিনি রাজ্যগুলোর গভীরে যাচ্ছেন। একাধিক শহর বা গ্রাম পরিদর্শণ করছেন। তাই ১৮ মাসে কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এখনও তাঁর উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক বাকি রয়েছে। তিনি মনে করছেন, তাঁর এই যাত্রা সম্পূর্ণ করতে ১৮ মাস সময় লাগবে।
উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরের বাসিন্দা অরূপ বিশ্বাসের সাইকেলে রয়েছে প্রয়োজনীয় জিনিস। যেখন একটা উনান, কিছু খাবার, কম্বল, কাপড়। সাইকেলের সামনে একটি ভারতীয় জাতীয় পতাকা এবং দুটি সোলার প্যানেল লাগানো রয়েছে। সৌর প্যানেল তাকে তার মোবাইল ফোন চার্জ করতে এবং সন্ধ্যায় আলো জ্বালাতে সাহায্য করে। সব মিলিয়ে সাইকেলটির ওজন প্রায় ৬৫ কেজি। এছাড়াও গাছটিকে কৃত্রিম গাছপালা দিয়ে সাজানো রয়েছে।
অরূপ বিশ্বাস বলেছেন, বেশিরভাগ মানুষ এখনও পর্যন্ত অক্সিজেনের গুরুত্ব নিয়ে সচেতন নয়। তিনি বলেন, 'গাছ এবং জল সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝানো আমার পক্ষে খুব কঠিন ছিল।' তবে বেশিরভাগ মানুষ তাঁকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। তবে সমস্ত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। তিনি বলেন, 'আমি রাজ্যের নাম বলব না। সেখানে একজন লোক নিজের জন্য মদের বোতল কেনার জন্য আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল।'
তিনি জানিয়েছেন, সমতল এলাকায় তিনি প্রতিদিন ১০০-১২০ কিমি যেতে পারেন। তবে পাহাড়ি এলাকায় ২৫ কিমি বেশি তিনি যেতে পারেন না। তিনি বলেন, যখন যাত্রা শুরু করেছেন, তখন প্রায় ২০০-২৫০ জন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এখনও রাস্তায় বহু মানুষ তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। গাছ ও জল সংরক্ষণের বিষয়ে জানতে চান।












Click it and Unblock the Notifications