‘উন্নয়নের পাঁচালি’ পেশ! ১৫ বছরে বাংলায় কী কী কাজ করেছেন? সব তথ্য প্রকাশ করলেন মমতা
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন প্রায় দোরগোড়ায়। তৃতীয় বারের মেয়াদ এবার শেষের পথে। চতুর্থ বার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ও ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে রাজ্যের শাসকদল এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। আর ঠিক এইরকম সময়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড়সড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন। আজ নবান্নের সভাঘর থেকে গত সাড়ে ১৪ বছরে তাঁর সরকারের কাজের সাফল্যের খতিয়ান বা 'প্রোগ্রেস রিপোর্ট' জনসমক্ষে পেশ করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমি মনে করি, ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে আমরা কী কী বলেছিলাম, আর এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা কী কী কাজ করেছি, সেটা সাধারণ মানুষদের জানানো আমাদের নিজেদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই এই 'রিপোর্ট কার্ড' প্রকাশ করা হল।"
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, এই দীর্ঘ সময়ে বাংলা উন্নয়নের ঠিক কোন ধাপে এসে পৌঁছেছে, সেই সমস্ত হিসেব নিকেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হল এই রিপোর্টে ৷ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, এটি সাধারণ কোনও অনুষ্ঠান নয়। বরং এটি একধরণের আনুষ্ঠানিক দলিল পেশ। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার সাধারণ মানুষের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, কৃষক বন্ধু, পড়ুয়াদের ক্রেডিট কার্ড সহ মোট ৯৪ টি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছে। আজকের এই বৈঠকে কীভাবে রাজ্যের স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রত্যেক ক্ষেত্রে তাঁর সরকার উন্নয়নের কাজ করে চলেছে সেই পরিসংখ্যানটি তুলে ধরা হল।
রাজ্যের প্রাপ্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে দেওয়ার পরও কর্মশ্রী, বাংলার বাড়ি প্রকল্পগুলি চালু রাখা হয়েছে। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "গ্রামীণ সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ এই প্রকল্পগুলিতে আমরা পর পর চারবছর ধরে প্রথম নম্বরে ছিলাম। সেই কারণেই তো ওরা বাংলার টাকা বন্ধ করে রেখেছে।"
কিছু কিছু প্রকল্প বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, সবুজসাথীর জনপ্রিয় প্রকল্পগুলি। সরকারের মতে এই সমস্ত প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এই প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের উপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য এই এই 'রিপোর্ট কার্ড' প্রকাশ করা হল। বিশেষ করে নারী কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে রাজ্যের সুফলভোগীরা ঠিক কতজন, সেই পরিসংখ্যানটি তুলে ধরা হয়েছে এই 'রিপোর্ট কার্ড'-এ।
আজকের এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও প্রকাশ করে সাড়ে ১৪ বছরে সরকারের সমস্ত 'উন্নয়নের পাঁচালি' তুলে ধরা হয়। এই 'উন্নয়নের পাঁচালী'-কে নিয়ে শিল্পী ইমন চক্রবর্তী সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আগেকার দিনে সন্ধ্যে বেলায় গ্রামের দিকে পাঁচালি পড়া হত। কিন্তু এখন আর সেইভাবে পাঁচালি পড়তে দেখা যায়না। প্রায় হারিয়ে যাওয়া সেই গৌরবকে ধরে রাখার জন্যেই এমন পাঁচালির ভাবনা।"
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী কী দাবি করলেন?
১) মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শেষ সাড়ে ১৪ বছরে রাজ্যের জিডিপি বেড়ে ২০.৩১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মূলধনী খাতে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১৭.৬৭ শতাংশ।
২) তাঁর দাবি, সাড়ে ১৪ বছরে দু'কোটি চাকরি দিয়েছি। বেকারত্ব কমে হয়েছে ৪০ শতাংশ। রাজ্যের লোকাল কোচ, মেট্রোর কোচ, জাহাজ, ভারী যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ইস্পাত কারখানা ও সিমেন্ট কারখানাও আছে। রাজ্যে ছ'টি অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হচ্ছে ।
৩) রাজ্য সরকার ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১.৭২ কোটি মানুষকে দারিদ্র সীমার বাইরে এনেছে।
৪) মুখ্যমন্ত্রী দাবি, ১২ লাখ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। যা যেকোন দেশের মধ্যে মডেল হয়ে গিয়েছে।
৫) ২.২১ কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হচ্ছে। ২২.০২ লাখ মেয়েরা রূপশ্রী প্রকল্প পেয়েছে। এক কোটি মেয়ে কন্যাশ্রী পান।
নবান্ন সভাঘরের অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বৈঠক। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও এই বৈঠকে উপস্থতি রয়েছেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব সহ প্রতিটি দফতরের মন্ত্রী, সচিব, আমলা, প্রতিটা জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার।












Click it and Unblock the Notifications