অমিত শাহকে দুঃশাসন বলে পদত্যাগ দাবি করলেন মমতা, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নাম না করে 'দুঃশাসন' আখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের দাবিও জানালেন।
দেশের অভ্যন্তরে নাশকতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি এই দাবি করেন।

অমিত শাহ গতকাল তিন দিনের সফরে রাজ্যে এসেছেন। আজ তিনি বাংলায় অনুপ্রবেশের সমস্যা নিয়ে যা বলেন তা শুনে মমতা পাল্টা তাঁকে প্রশ্ন করেন, যখন জম্মু ও কাশ্মীর ও দিল্লিতে জঙ্গি হামলা হয়েছে, তখন কেন সীমান্ত অনুপ্রবেশের জন্য বারবার শুধু এই রাজ্যকেই দায়ী করা হচ্ছে?
আগামী বছরের শুরুতেই রাজ্যে ২৯৪ আসন বিশিষ্ট বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আজ বাংলায় দুঃশাসন এসেছেন। যখনই নির্বাচন আসে, দুর্যোধন আর দুঃশাসন এখানে আসেন।"
তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও অমিত শাহের সমালোচনা করেন। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "অনুপ্রবেশ কি শুধু বাংলাতেই হয়? কাশ্মীরে কি হয় না?" পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি এই প্রশ্ন করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজধানীতে ঘটা গাড়ি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গটিও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, "কিছুদিন আগে দিল্লিতে একটি ঘটনা ঘটেছে। বাংলা ছাড়া কি আর কোথাও অনুপ্রবেশকারী নেই? তাহলে কি আপনারা এর পিছনে ছিলেন?" এই বলে তিনি পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কিছুর জন্য দোষারোপ করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, "বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা শুধু বাংলার সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত। রাজ্যে একটি শক্তিশালী সরকার গঠিত হলে সম্পূর্ণভাবে অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে।"
শাহ দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী সরকার গঠন করবে এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে "দুর্নীতিগ্রস্ত" তৃণমূল কংগ্রেস শাসনকে উৎখাত করবে।
বাঁকুড়ার জনসভা থেকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পুনরায় পদত্যাগের দাবি জানান। তিনি বলেন, "আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে। আপনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; আপনার পদত্যাগ করা উচিত।"
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে অমিত শাহ আর 'আব কি বার, ২০০ পার' স্লোগানটি বলছেন না। বরং বিজেপি অতিরঞ্জিত দাবি করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। তৃণমূল নেত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে। তিনি ঘোষণা করেন, "আপনারা বলছেন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতবেন। এবার আর আপনারা 'আব কি বার, ২০০ পার' বলছেন না। আমি বলতে চাই, এবার আপনাদের দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিত।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন যে, তাঁর দল পশ্চিমবঙ্গে আবার ক্ষমতায় ফিরবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে জাতীয় স্তরে বিজেপির মোকাবিলা করবে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর বেড়া লাগানোর জন্য তৃণমূল সরকার জমি দিচ্ছে না বলেও অমিত শাহ অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যদি জমিই না দেওয়া হতো, তাহলে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর (রেল) লাইন কে তৈরি করতো? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই করেছেন। যদি জমি না দেওয়া হত, তাহলে কয়লা উত্তোলনের জন্য ইসিএল-এর জমি কোথা থেকে আসত?"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে সীমান্ত এলাকাতেও জমি দেওয়া হয়েছে। "বনগাঁ ও পেট্রাপোলে কে জমি দিলেন? ঘোজাডাঙ্গা ও চ্যাংরাবান্ধায় কে জমি দিলেন?" বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এও জানান যে, অণ্ডাল ও পানাগড়ে বিমানবন্দর তৈরির জন্যও জমি দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ফের বলেন যে, তাঁর সরকার ওয়াকফ সম্পত্তি বা কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর কোনও হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না।
সংশোধিত ওয়াকফ আইন চলতি বছরের ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল এই নতুন আইনের কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি তুলেছিল, যা সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করেছে।
বাঁকুড়ার বড়জোড়ার জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা ওয়াকফ সম্পত্তি কাউকে নিতে দেব না। কোনও ধর্মীয় স্থানে হাত দিতে দেওয়া হবে না। যতদিন আমরা ক্ষমতায় আছি, ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিতে দেব না। আমি ধর্মের রাজনীতি করি না। আমি মন্দির, মসজিদ বা গির্জা ভাঙতে দেব না।" উল্লেখ্য, সংশোধিত ওয়াকফ আইন মুর্শিদাবাদ জেলা-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।












Click it and Unblock the Notifications